Reading Time: 3 minutes

গতানুগতিক বাল্ব এখন আর তেমন ব্যবহার হয় না। বাজারে নানারকমের লাইট থাকলেও, জায়গায় এখন এলইডির ব্যবহার লক্ষণীয়। এলইডি লাইটের গুণগানও অনেকেই শুনেছেন। বাসা বাড়ি কিংবা অফিস সবক্ষেত্রেই এই লাইট ব্যবহারের রয়েছে বেশ কিছু সুবিধা। এলইডি বাল্ব একটি লাইট-এমিটিং ডায়োড (এলইডি) পণ্য। এটি একটি সাশ্রয়ী লাইট এবং সাধারণ লাইটের চেয়ে ৪ গুণ বিদ্যুৎ-খরচে সাশ্রয়ী। উন্নতমানের কিছু এলইডি লাইট প্রতি ওয়াটে ১০০ লুমেন আলো দিতে পারে। এই লাইট দিনে ৮ ঘণ্টা করে প্রায় ১২ বছর চলতে পারে। এগুলোর বাইরেও এলইডি লাইটের বিদ্যুতের খরচ অনেক কম।  এটাও একটা অন্যতম কারণ অনেকে এই লাইট বেছে নিচ্ছে। আর কী কী  কারণে এলইডি লাইট ব্যবহার করা যায় তা আজকের ব্লগে জানবো।

এলইডি
এটি একটি সাশ্রয়ী লাইট

জীবনকাল

এলইডি লাইটকে সাধারণ বাল্ব এবং সিএফএল’র সাথে তুলনা করা হলে এর জীবনকাল অবশ্যই বেশি এবং টেকসই। এবং ঘরে এই লাইটের ব্যবহারও বেশি। পেনডেন্ট লাইট থেকে শুরু করে সবধরনের ঝাড়বাতিতে এখন এই লাইট ব্যবহার হচ্ছে। যেখানে  সাধারণ বাল্বের জীবনকাল প্রায় এক হাজার ঘন্টা অন্যদিকে এলইডি লাইটের গড় আয়ু থাকে ৫০,০০০ ঘন্টা। যদিও আপনার ব্যবহার করার উপর এটা নির্ভর করে। তবে এর জীবনকাল সাধারণত ১০০,০০০ ঘন্টা দীর্ঘ হতে পারে। এবং বেশ কিছু এলইডি লাইটে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়া থাকে। 

শক্তি ক্ষমতা

আমরা অনেকেই হাজার হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিয়ে হাপিয়ে উঠেছি। এর এক বিহিত দরকার। এমন সকল সমস্যার সমাধান কিন্তু এলইডি লাইট। এলইডি লাইট ব্যবহারের আর একটি সুবিধা হচ্ছে এর প্রতিটি ইউনিট পাওয়ারের জন্য কম শক্তির প্রয়োজন হয়। যার ফলে শক্তি ব্যবহারও কম হয়।

মিটার
প্রতিটি ইউনিট পাওয়ারের জন্য কম শক্তির প্রয়োজন হয়

কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স (সিআরআই) 

কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স বা সিআরআই হল কোনও বস্তুর আসল রঙ প্রকাশ করার জন্য আলোর ক্ষমতার পরিমাপ। ঐতিহ্যবাহী বাল্বের তুলনায় এলইডিগুলির উচ্চতর সিআরআই পরিমাপ রয়েছে। প্রতিটি বাল্বই সাদা আলোর উপরে নির্দিষ্ট শেড দিয়ে থাকে। কালার টেম্পারেচার ভিন্ন বলে ভিন্ন ভিন্ন শেড দেখা যায়। তাই এলইডি লাইটগুলির অন্যতম প্রধান সুবিধা হল এটির সিআরআই পরিমাপ। 

যেকোন তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে

যেকোন তাপমাত্রার লাইট
কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় এলইডি লাইটের ব্যবহার বেশি

সাধারণ বাল্বগুলো শীতল তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসা পছন্দ করে না। যখন তাপমাত্রা হ্রাস পায় তখন আলোর উৎস বা ফ্লুরসেন্ট ল্যাম্পগুলো শুরু হতে প্রয়োজন হয় তীব্র ভোল্টেজের। অন্যদিকে, এলইডি লাইটগুলি শীতল তাপমাত্রায়ও মানিয়ে যায় আলোর ছড়িয়ে দিয়ে কোন প্রকার বাঁধার সম্মুখিন হতে হয়না। ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটেও এলইডি লাইট ৯০% আলো উৎপন্ন করে থাকে। ফলস্বরূপ, ফ্রিজার, মাংসের লকার এবং কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় এলইডি লাইটের ব্যবহার বেশি। 

পরিবেশ বান্ধব

এলইডি লাইটে মার্কারির মতো বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার না করায় তা পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন আমাদের সবারই কাম্য। সে ভাবনা থেকে অনেকেই এলইডি লাইট বেছে নিচ্ছে। এলইডি লাইটে ইউভি রশ্মি ছড়ায় না। ফলে এই লাইট মানব স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না। এমনকি এলইডি লাইট নবায়নযোগ্য। পারদ বা বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহৃত হয় না বলে জমি বা পানিকে দূষিত করে না। অন্যদিকে সাধারণ বাল্ব ব্যবহারের পর ফেলে দিলে তা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠে। 

এই সবগুলো সুবিধা আপনাকে জানান দিচ্ছে আপনি এখনই এলইডি লাইট বেছে নিন। এছাড়াও, লিভিং রুমে এম্বিয়েন্ট তৈরি করতে বেছে নিতে পারেন এই লাইটগুলোকে। বাসা বাড়ি থেকে অফিস আদালত যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন এলইডি লাইটের বিকল্প নেই। আপনার মতামত জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

Write A Comment