Reading Time: 4 minutes

ওপেন কিচেন থেকে শুরু করে ওপেন অফিস কোনটাই এখন আর নতুন কনসেপ্ট নয়। খোলামেলা পরিবেশে আধুনিক নকশায় এই নতুন হাউজ কনসেপ্টগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এগুলো একটু নতুন হলেও বাইরের দেশগুলোতে এগুলোই যেন সাধারণ প্র্যাকটিস। আর কেনই বা হবে না। ওপেন ফ্লোর বা ওপেন কিচেন কিংবা অফিস সবকিছুরই বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। একে একে জানা যাক ওপেন ফ্লোর প্ল্যান মূলত কী এবং সুবিধা অসুবিধাগুলো সম্বন্ধে!

ওপেন ফ্লোর
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এগুলো একটু নতুন হলেও বাইরের দেশগুলোতে এগুলোই যেন সাধারণ প্র্যাকটিস

ওপেন ফ্লোর প্ল্যান কী? 

আমরা সচরাচর দেখি, একটি কিংবা দুটি বেড সাথে ড্রয়িং ডাইনিং আলাদা। ওপেন ফ্লোরের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট কিছুটা আলাদা। কমন একটা স্পেস থাকবে যেখানে আলাদা করে কোন রুম থকাবে না। বা সহজ করে বলতে কোন পার্টিশন থাকবে না। ওপেন ফ্লোর কনসেপ্টটা কেবল কমন স্পেসেই প্রয়োগ হয়। বাথরুম, বেডরুম বা হোম অফিসের মত স্পেসে ওপেন ফ্লোর কনসেপ্টটা তেমন কাজে আসে না। 

সাধারণত স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে যেমনটা দেখা যায়। যদিও স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ভিন্ন এক কনসেপ্ট। “স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট” হচ্ছে এমন একটি ঘর বা জায়গা যেখানে আপনি থাকবেন, ঘুমাবেন, খাবেন এমনকি রান্নাও করবেন। মানে একটি বড় ও খোলা জায়গা হবে আপনার বেডরুম, লিভিং রুম, ডাইনিং, ড্রয়িং রুম এবং কিচেন। কিন্ত ছোট পরিসরে। আর ওপেন ফ্লোরে বেডরুম, ডাইনিং কিংবা লিভিং এই সবকিছু যথেষ্ট স্পেস নিয়েই নির্ধারণ করা থাকে কেবল পার্টিশন দেয়া থাকে না। পার্টিশনবিহীন সবকিছুকেই আমরা চাইলে ওপেন ফ্লোর প্ল্যান বলতে পারি। আরও জানতে পড়তে থাকুন। 

ওপেন ফ্লোর
ওপেন ফ্লোর প্ল্যান এর বাসাগুলোর ব্যবহার বহুমাত্রিক

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের সুবিধা

চলাফেরায় কোন বাধা থাকে না 

নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায়। দরজা বা জানালা খোলার কোন প্রয়োজন পড়ে না। খোলামেলা পরিসর পাওয়া যায়। 

যোগাযোগ 

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে কোন পার্টিশন বা দেয়াল থাকে না তাই, সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকা যায়। সবসময় পরিবারের সদস্যদের ভেতর সুসম্পর্ক বজায় থাকে। 

প্রাকৃতিক আলো 

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের চারদিকের দেয়াল বাদে ভেতরে কোন দেয়াল নেই, নেই কোন পার্টিশন, এটাই মূল কারণ বাসার ভেতরে প্রাকৃতিক আলো থাকার। দেয়াল বা পার্টিশনের ফলেই ঘর অন্ধকার হয়ে ওঠে এবং কৃত্রিম আলো জ্বালানোর প্রয়োজন পড়ে। ওপেন ফ্লোর প্ল্যানগুলোতে কম আলো জ্বালিয়েও ঘর আলোকিত করা সম্ভব। 

রিয়েল এস্টেটের মান উন্নত

প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, ওপেন ফ্লোর প্ল্যান অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে আপনার বাড়ির মূল্য বাড়িয়ে তোলে বহুগুণে। 

বাচ্চাদের দেখভাল 

বাসার যেখানেই থাকুন না কেন আপনি সহজেই বাচ্চাদের উপর নজর রাখতে পারবেন। বাচ্চার অনেক সময় খেলতে খেলতে চোখের আড়ালে চলে যায় আর ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা। ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের বাসা হলে আপনি এক জায়গায় থেকেও বাচ্চাদের উপর নজর রাখতে পারছেন। 

স্পেসগুলো মাল্টি ফাংশনাল

ওপেন ফ্লোর প্ল্যান এর বাসাগুলোর ব্যবহার বহুমাত্রিক। আপনার প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে কখনো বেডরুম আবার কখনো হোম অফিস কিংবা আড্ডা স্পেস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। 

খরচের পরিমাণ কমে আসে 

ক্লোজড ফ্লোরের চাইতে যেহেতু দেয়াল বা পার্টিশন অনেকটাই কম সেহেতু বাড়ি নির্মাণের খরচও অনেকটা কমে আসবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ওপেন ফ্লোরে একটা খোলামেলা জায়গায় আসবাব রাখলেই বাড়তি কোন আসবাব প্রয়োজন হয়না এবং দেয়াল বা পার্টিশনের জন্য কোন পয়সা খরচ করতে হয় না।  

ওপেন ফ্লোর প্ল্যান
ওপেন ফ্লোর প্ল্যান অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের অসুবিধা 

শব্দ দূষণ 

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে যেকোন শব্দ বেশ জোরে শোনায়। যেহেতু কোন পার্টিশান বা দেয়াল নাই তাই অল্প শব্দ হলেও তা বেশ জোরে শোনায়। এছাড়া, একটা স্পেসে কোন রকম পার্টিশন ছাড়া একাধিক মানুষ বসলে এমনিতেই তা হৈ চৈ মনে হয়। 

প্রাইভেসির স্বল্পতা 

অনেকেই আছেন যারা নিজের মত করে নিরিবিলি থাকতে ভালোবাসেন। তাদের জন্য ওপেন স্পেস একদমই উপযুক্ত নয়। বেশীরভাগ সময়ে দেখা যায় বাসার সবাই এক সাথে এক জায়গায় বসে আছে এতে নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি কিছুটা কম থাকে। 

তৈরি হয় নানারকম নাটকীয়তা 

ওপেন স্পেসে যেহেতু থাকতে হয় সবাই এক সাথে নানারকম ঝাল টক ঘটনা সৃষ্টি হয়। এড়ানো যায় না এমন অনেক কথা বা গল্প তৈরি হয় যা থাকার পরিবেশকে কিছুটা হলেও ঘোলা করে ফেলে। ওপেন স্পেসে এই সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে যা এড়ানো কঠিন। 

কিচেন 

ওপেন ফ্লোর প্ল্যানের কিচেনের একটা বড় অসুবিধা হচ্ছে, রান্না করার সময় যেকোন ধরণের এলোমেলো অবস্থা আপনি লুকাতে পারছেন না। অর্থাৎ যতবারই আপনি রান্না করছেন ততবারই আপনাকে সবকিছু সঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখতে হচ্ছে! নতুবা এলোমেলো রান্নাঘর আপনাকে দেখতেই হচ্ছে। এছাড়াও, ওপেন কিচেনের আর একটি সমস্যা হল, রান্নাঘরের শব্দ আপনি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। কেননা,হতে পারে প্রেশার কুকারের শিটির শব্দ বা ব্লেন্ডারের শব্দ আপনি চাইলেই কমিয়ে আনতে পারবেন না। এছাড়া কাজের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া যেকোন শব্দ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরক্ত করতে পারে। তাছাড়া, রান্নার সময় আমরা এমন অনেক উপকরণ ব্যবহার করি যেগুলো বেশ গন্ধযুক্ত! সেটাও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরক্ত করতে পারে। কিন্তু এই স্বাভাবিক কাজটাও আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। অথচ ক্লোজড কিচেনে আপনি চাইলেই দরজা লাগিয়ে এবং এক্সহস্ট ফ্যান চালিয়ে দুর্গন্ধ দূর করতে পারছেন।   

এয়ার কন্ডিশন ব্যয়বহুল 

যেহেতু ওপেন স্পেস তাই আপনি একটি এসি বা একটি ফ্যান দিয়ে কখনোই পুরো বাসা কাভার করতে পারছেন না, আর যদি কাভার করতে যানও এক্ষেত্রে আপনাকে বড় সাইজের এসি নিতে হবে যা ক্রয় ও মেইন্টেইনের ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল হবে। 

নির্মাণ ব্যয় 

পার্টিশন ছাড়া যেকোন কিছুই আপনাকে তৈরি করতে হবে স্টিলের সাহায্যে যা ইটের থেকে ব্যয়বহুল বহুলাংশে। ওপেন ফ্লোর প্ল্যান এর সুবিধা-অসুবিধা দুটোই রয়েছে কিন্তু যে সিদ্ধান্তই নেন না কেন! অবশ্যই ভেবে নিবেন। আর আজকের এই আর্টিকেল কেমন লেগেছে জানাতে কমেন্ট করুন! আর হোম ইন্টেরিয়রটা স্টাইলিশ করতে চাচ্ছেন? বিপ্রপার্টি হতে পারে আপনার ইন্টেরিয়র গাইডেন্স! সেটা কীভাবে জানতে যোগাযোগ করুন এখনই!

কলঃ ০৯৬১২১১০০১১
ইমেইলঃ interior@bproperty.com
ভিজিট করুন https://www.bproperty.com/en/interior/

Write A Comment