Reading Time: 3 minutes

আকাশ ছুঁয়ে দাড়িয়ে থাকা গাছগাছালিতে ঘেরা এই সাফারি পার্ক একবার অন্তত ঘুরে দেখা চাই। পরিবার নিয়ে বা একাই ঘুরে বেড়ানো যাদের শখ তাদের জন্য সাফারি পার্ক হতে পারে এক কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা। কিন্তু, ভেবে দেখুন সময় যতই যাচ্ছে, এই শখটি পূরণ করা যেন অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। গাছগাছালি আর প্রাণীদের নিয়ে সময় কাটানোটা যেন অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে যেমন বেড় হওয়া যায় না কাজের চাপে আবার এত সময় নিয়ে ছুটিও মেলে না। সকল টানাপোড়নের একটি চমৎকার সমাধান রয়েছে এই সাফারি পার্কে। প্রিয়জনের সাথে একটু অন্যরকম সময় কাটাতে কিন্তু এই জায়গাটি হতে পারে বেশ মজার। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এই সাফারি পার্ক হচ্ছে প্রথম পছন্দ। 

ম্যাপ
লোকেশন

ঢাকা থেকে একটু দূরে দেখে হয়তো ভাবছেন, যেতে কি খুব ঝক্কি হবে নাকি? তাহলে ভাবনার ওন কারণ নেই। কেননা ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে একটু দূরেই সাফারি পার্কের অবস্থান। এতটুকু শুনেই কিন্তু খুশি হওয়া যাবে না মোটেও। বাঘ বা ভাল্লুকের দেখা পেতে আরও একটু কষ্ট করতেই হবে আপনাকে। সেজন্য আরও ৩ কিলোমিটার পশ্চিমের ভেতরে যেতে হবে। অনেকটা পেছন থেকেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রবেশ ফটক। সেটা পার করলেই আপনাকে সারি সারি ফুল গাছ এবং বাঘ, সিংহ, বাহপাখি, ক্যাঙ্গারু আমন্ত্রণ জানাবে তাদের ভুবনে। ভয় পাবার কিছু নেই। এগুলো তো প্রাণহীন, মাটি বালু ও সিমেন্টের তৈরি বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য।

সাফারি পার্কের ফটক
সাফারি পার্কের ফটক

শালবনে ঘেরা গভীর বনকে উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ যেন এক অন্যভুবন। এমন গভীর বনে আপনি বেড় হয়েছেন প্রকৃতির কাছে পৌঁছে যেতে। এমন সময় কি ভয়ে দমে থাকার? একদমই না। ভাবুন তো, আপনি ক্ষুধার্থ কয়েকটি হিংস্র বাঘ বা সিংহ আপনার উপর আছড়ে পড়ল শিকারের আশায় কিন্তু, না পারল না। কাঁচের দেয়াল থাকার কারণে ২ ইঞ্চির জন্য আপনাকে গ্রাস করতে পারল না। আমি হলে তো ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতাম। এমন সব রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা আপনাকে এনে দিতেই থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশের গাজীপুরে নির্মিত হয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎত্তম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।

বন্য প্রানীদের অভয়ারন্য। পুরো বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, কোর সাফারি পার্ক, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, সাফারি কিংডম, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক নামক ৫ টি অংশে বিভক্ত।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, কোর সাফারি ও সাফারি কিংডম 

সাফারি পার্ক
সাফারি পার্ক

সাফারি পার্কের ৩৮ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই স্কয়ারটি। পার্কিং এলাকা, বিনোদন উদ্যান ও প্রশাসনিক ভবনগুলো এই স্কয়ারে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আছে ফোয়ারা লেক, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ইকো-রিসোর্ট ইত্যাদি। ১২১৭ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে কোর সাফারি যেখানে পর্যটক প্রবেশ একেবারেই নিষেধ। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি জিপ ও দুটি মিনিবাস। নির্দিষ্ট টাকা গুনে তবেই এগুলো পাওয়া যাবে। এই সব গাড়ি ছাড়া কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে বুঝতেই পারছেন সেখানে ঘুরতে যাওয়াটা এতটাও নিরাপদ নয়। বন্য প্রানী দেখার পর আরও আছে ৩৪ প্রজাতির বিভিন্ন রকম পাখি রয়েছে। যারা পাখি ভালোবাসেন তাদের জন্য এখানে যাওয়া মাস্ট ভিজিট।

যেভাবে যাবেন 

ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রভাতি-বনশ্রি বাস মাওনা যায়। এই বাসে করে বাঘের বাজার নামতে হবে। ভাড়া ৭০ টাকা। এছাড়াও মহাখালি থেকেও এই বাসে উঠা যাবে, ভাড়া ৬০ টাকা নিবে। অথবা সায়েদাবাদ থেকে বলাকা, গুলিস্তান থেকে গাজিপুরের যে কোন গাড়ি ও যাত্রাবাড়ি, মালিবাগ, রামপুরা থেকে সালসাবিল বা অনাবিল বা অন্য যে কোন বাসে গাজিপুর চৌরাস্তা গিয়ে, তারপর লেগুনা করেও যাওয়া যায়। চৌরাস্তা থেকে লেগুনা ভাড়া ৩০ টাকা।

এছাড়াও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে গাজিপুর নেমে লেগুনা করেও যাওয়া যাবে বাঘের বাজার। বাঘের বাজার থেকে ইজি বাইক/ অটো রিক্সা/ সিএনজি করে ৩ কিলো পশ্চিমে পার্কের ফটক পর্যন্ত যেতে ভাড়া নিবে জনপ্রতি ১০ টাকা। এছাড়া নিজেদের গাড়ি থাকলে তো কথাই নেই। নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারেন পার্কে। 

এই পার্কে সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসা যায়। তারপরও কেউ চাইলে পার্কে থাকতে পারেন। রাত্রি যাপনের জন্য পার্কে বিশ্রামাগার আছে। থাকতে হলে আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে আসলে গাজিপুর চৌরাস্তা এসে যেকোন হোটেলে থাকতে পারেন।

টাইগার রেস্তোরাঁ
টাইগার রেস্তোরাঁ

পার্কের প্রধান ফটকের একটু আগেই কয়েকটি রেস্তোরাঁ আছে সেখানে খাওয়া দাওয়া করা যাবে। পর্যটন স্পট বিধায় সব কিছুর দাম একটু বেশি। এছাড়া বাঘের বাজারে কয়েকটি রেস্তোরাঁ আছে সেখানেও খাবারের ব্যবস্থা আছে। পার্কের ভিতরে দুটি ফুড কার্ট আছে সেখানে ফাস্ট ফুড আইটেম সহ কোমল পানীয়, চিপস ইত্যাদি পাবেন। এবং সকালে গিয়ে অর্ডার করলে দুপুরের খাবারো পাবেন। তবে ভিতরে দাম অনেক বেশি।

সময় নিয়ে ঘুরে আসুন না এই সুন্দর ও প্রাকৃতিক জায়গা থেকে। ভালো না লেগে উপায় আছে?

Write A Comment