Reading Time: 4 minutes

অবসরে ঘুরতে কার না ভালো লাগে! আর সেই ঘোরার জায়গাটি যদি হয় কেনাকাটার আখড়া তাহলে কিন্তু একের মধ্যে সব পেয়ে যাবার মত ব্যাপার। আমরা অনেকেই আছি শপিং সেন্টারে ঘুরতে যাই কেবল খেতে,বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে কিংবা সিনেমা দেখতে। শপিং না করেই ঘুরে ঘুরে কি আছে অথবা কি কি ট্রেন্ডিং টা জেনে রাখতে অনেকেরই ভালো লাগে। এবং কিছু কেনাকাটা করতে গেলে তো কথাই নেই এমন কিছু সেরা শপিংমল আছে যেখানে বয়স ও নারী পুরুষ ভেদে সকলের জন্য আছে পোশাক আর জুতো। একটি শপিংমল ই জুগিয়ে দেয় সকল চাহিদার যোগান।পরিবারের সকল সদস্যের জন্য কেনাকাটা করা যাবে এমন শপিংমল গুলো সব সময়ই ভিড় থাকে। এক্ষেত্রে, পুরুষেরা একটু নির্ভেজাল হলেও নারীদের তালিকা বিশাল বড়, পায়ের পাতা থেকে মাথা অব্দি সবকিছু এক জায়গায় পাওয়ার মত কিছু শপিংমল রয়েছে সেগুলো একটু আলাপ করা যাক।

বসুন্ধরা সিটি

শপিংমল বললে যে নামটা প্রথমেই মাথায় আসে সেটি হল “বসুন্ধরা সিটি” কেননা এটি বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক শপিংমল। পান্থপথে অবস্থিত এই শপিং মলে মিলবে প্রয়োজনের সবকিছু। পরিবারের বড় থেকে ছোট সকলের জন্য এই শপিংমলটি ওয়ান স্টপ স্যালুশন। এই ভবনটি দু-ভাগে বিভক্ত রয়েছে, ১৯ তম তলাটি হচ্ছে কর্পোরেট অফিস এবং ৮ তম তলাটি হচ্ছে শপিংমল যেখানে ২০০০ খুচরো দোকান, বিনোদনের কেন্দ্র,সিনেমাহল এবং ফুড কোর্ট রয়েছে। দৈনিক ৫০ হাজারের মত মানুষ এখানে ঘুরতে কিংবা কেনাকাটা করতে আসেন। কেবল কেনাকাটা নয়, পাশাপাশি দেশের শ্রেষ্ঠ সিনেমা হলের একটি হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স, যেখানে সব দেশী-বিদেশী সিনেমা উপভোগ করার সুযোগ আছে। কেনাকাটা, সিনেমা দেখা এরপর যদি মন আর পেট ভরে যদি খেতেই না পারলাম তাহলে যেন সারাদিনের প্ল্যান অসম্পূর্ণ।  ফুড কোর্টে রয়েছে দেশি-বিদেশি সকল খাদ্যের সমাহার ও বসার সু-ব্যবস্থা। তাই অনায়াসে বলাই যায়, বসুন্ধরা সিটি ওয়ান স্টপ স্যলুশন কেনাকাটা প্রেমীদের জন্য।

যমুনা ফিউচার পার্ক

দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল হচ্ছে আমদের যমুনা ফিউচার পার্ক তাই সকল দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সমাহার নিয়ে ঠাই দাড়িয়ে আছে এই বিখ্যাত শপিংমলটি। বিশাল আয়তন বিশিষ্ট এই শপিংমলটিতে অনেক দোকানই ভাড়া কিংবা ক্রয়ের জন্য খালি আছে তবুও তুলনামূলক ভাবে যে দোকান গুলো আছে তা দিয়েইএই শপিংমলটি সজাগ ভাবে চলছে। খুচরা দোকান গুলোর পাশে রয়েছে মুভি থিয়েটার,পার্ক,জীম,বোলিং যোন,ক্যারিওকে সেন্টার, গেমিং জোনসহ আরও অনেক চমৎকার সব ফিচার। আপনি সহজেই কেনাকাটা করতে করতে হারিয়ে যেতে পারবেন নিজের পছন্দের এক জগতে। বিশাল আয়তন নিয়ে গড়ে ওঠা এই শপিংমলে দোকান গুলো গড়ে উঠেছে যথাযথ জায়গা নিয়ে। তাই নামীদামী অনেক ব্র্যান্ড নিজেদের ফ্ল্যাগশীপ শো-রুম হিসেবে বেঁছে নিয়েছে এই মলকে। নানা ব্র্যান্ডের দোকান ছাড়া রয়েছে বিখ্যাত সব ফুড কোর্ট যেখানে সময় করে পেট চর্চা করা যাবে। শহরের এক কোনায় হওয়াতে হয়তো তেমন ভিড় নেই কিন্তু যাদের বাসা বসুন্ধরা আর এ তে তাদের জন্য খুবই পরিচিত একটি ঠিকানা যমুনা ফিউচার পার্ক।

সীমান্ত স্কয়ার

বর্ডার গার্ড  বাংলাদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত স্কয়ার ছোট আঙ্গিকে বড় করে সাজানো একটি শপিংমল। ঢাকার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এলাকা ধানমন্ডির জিগাতলায় অবস্থিত এই শপিংমলটি খুব জনপ্রিয় একটি নাম। ছোট থেকে বড়, সকলের জন্য পছন্দের তালিকায় প্রথম। এই শপিংমলে রয়েছে ৩০০ এর বেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান, চমৎকার সব ফুড কোর্ট যা কিনা অনেক গ্রাহককে টেনে আনে সেই দূর-দুরান্ত থেকে এবং সব ধরণের অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে কনভেনশন হল। এত শত কেনাকাটা আর খাবার দাবার পেয়ে হয়তো পকেট খালি হয়েই যেতে পারে তাতেও ভয় নেই, আছে মোটামোটি সব কটি এটিএম সার্ভিস নিয়ে এটিএম বুথ। ফুড কোর্ট নিয়ে বিশেষ করে বলতেই হয়, ধানমন্ডি খাবার রেস্তোরার জন্য অনেক বিখ্যাত হলেও সীমান্ত স্কয়ারের ফুড কোর্ট তেমনি বিখ্যাত এবং সাধ্যের মধ্যে সেরা। ইতিমধ্যে শপিংমলের নিচে থাকা ফুডকোর্ট গুলো ভবনের ছাঁদে নেয়া হয়েছে, তাই খেতে গিয়ে হতাশ না হয়ে ভবনের লিফটটি খুঁজে পেলেই পেয়ে যাবেন ফুড কোর্টটি।     

পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমল

বিলাসবহুল এলাকা গুলশান ১ সার্কেল থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমল খুব কম সময়ে অনেকটা খ্যাতি অর্জন করেছে, ১২ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে ৫ তলা অব্দি কেবল শপিং সেন্টারের জন্য বরাদ্দ। আর এই ৫ তলাই বলতে গেলে যথেষ্ট যে কোন শপিং প্রেমী মানুষের তেষ্ণা মেটাতে। নামীদামী সব ব্রান্ডের দোকান যেমন বড় পরিসরে আছে  এক একটি ফ্লোরে তেমনি শপিং প্রেমীদের মনেও বিশাল জায়গা করে আছে। গুলশানের আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রথম পছন্দ এখন পুলিশ প্লাজা। রুচি সম্মত ইউনিক সব ডিজাইন নিয়ে দোকান গুলো সব সময়ই জম জমাট থাকে। বিভিন্ন মৌসুম বা বছর ব্যাপী সব সময়ই এই শপিং মলটি গ্রাহক টেনে আনে। বিভিন্ন ব্রান্ডের দোকানের সাথে আছে মজাদার সব ফুড কোর্ট, শপিং শেষে নিজেদের মত করে কিছুক্ষণ কানাটানো যাবে অনায়াসে। শপিংমলের ভেতর ও বাহিরে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

টোকিও স্কয়ার

ঢাকার অন্যতম রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া হচ্ছে আমাদের মোহাম্মদপুর। এখানে বসবাসের পাশাপাশি কেনাকাটার জন্য টোকিও প্লাজা খুব পরিচিত এবং বিখ্যাত। এ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য খুব ই সুবিধাজনক একটি ঠিকানা। টোকিও প্লাজায় আছে খুচরা দোকান যেখানে স্বাভাবিক রেঞ্জের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বেশি রেঞ্জের কেনাকাটাও হয়ে থাকে। দোকানের পাশাপাশি কনভেনশন হল ও আছে সব ধরণের অনুষ্ঠানের জন্য। উদ্বোধনের সময় থেকে এখন অব্দি টোকিও প্লাজা কনভেনশন হলটি খুব আলোচিত একটি হল হিসেবে বিখ্যাত। ৩ টি আলাদা আলাদা হল বিশিষ্ট এই কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হত পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক সব ছোট বড় অনুষ্ঠান। এছাড়া কেনাকাটার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে বেশ, ছাত্রছাত্রী থেকে সব পেশার মানুষের জন্য আছে ফুড ম্যেনু।

কেনাকাটা হোক কিংবা একটু ঘুরে আসা ঢাকার শপিংমল আপনাকে কখনই নিরাশ করবে না এতটুকু জোর দিয়ে বলাই যায়। হাল ফ্যাশনের কথা ভেবে যদি শপিংমলে ঘুরে আসতে চান তাহলে এই ৫টি শপিংমল যথেষ্ট আপনার আলমারি ভারি করতে। আর ঘুরতে গেলে তো কথাই নেই সময়টা নির্দিধায় খুব ভালো সময় কাটবে। তাহলে ঘুরে এসে আমাকে জানাতে ভুলবেন না, কিভাবে জানবেন? কমেন্ট বক্সে পেয়ে যাবেন আমার ঠিকানা।

Write A Comment