Reading Time: 8 minutes

ঘরে ঢোকার আগেই অতিথিকে স্বাগত জানায় সদর দরজা। বাড়িতে একেকটি রুমের দরজা যেন একেকটি ভিন্ন জগতের প্রবেশ পথ। কোনোটি আপনাকে নিয়ে যাবে বাড়ির প্রবীণ সদস্যটির নানা অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে থাকা ঘরটিতে, কোনো দরজা আবার মিশেছে পরিবারের ছোট্ট সদস্যটির কল্পনার মিশেলে গড়ে তোলা ঘরে। আগত ব্যক্তিকে দরজার ওপাশের জগত সম্পর্কে ধারণা দিতে তাই দরজার সাজ হতে পারে দারুণ এক মাধ্যম। ঘরের দরজায় উজ্জ্বল হলুদ রং হতে পারে আপনার স্বতন্ত্রতার পরিচায়ক বা এক টুকরো কাঠের ফ্রেমে আপনি লিখতে পারেন স্বাগত বার্তা। এমন ছোট ছোট কিছু অনুষঙ্গের মিশেলে দুয়ার সজ্জায় কীভাবে ভিন্নতা আনবেন তা নিয়েই আমাদের আজকের ব্লগ। 

যেমন হবে দরজার ম্যাটেরিয়াল 

দরজার সাজ এর প্রথম ধাপেই থাকছে দরজার ম্যাটেরিয়াল নির্বাচন। এক্ষেত্রে ঘরের ভেতরের সাজসজ্জার সাথে মেলানোর কথা তো ভাববেনই, তবে ম্যাটেরিয়ালটি দরজার জন্য যথেষ্ট মজবুত কিনা সেটি খেয়াল করতে হবে সবার আগে। ভুলে যাবেন না, আপনার ঘর বা পুরো বাড়ির সুরক্ষা কিন্তু, দরজার ওপর বেশ অনেকটা নির্ভরশীল। 

কাঠ 

কাঠের দরজা
সদর দরজা বা মেইন গেটের জন্য অনেকেই মজবুত কাঠ হিসেবে পরিচিত সেগুন, মেহগনি, সুন্দরী, কাঁঠাল ও বার্মাটিক বেছে নেন

সদর দরজা বা মেইন গেটের জন্য অনেকেই মজবুত কাঠ হিসেবে পরিচিত সেগুন, মেহগনি, সুন্দরী, কাঁঠাল ও বার্মাটিক বেছে নেন। কাঠের তৈরি দরজা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় ও দেখতেও চমৎকার কারণ কাঠ রং করার ও ডিজাইন করার সুবিধাও অনেক। কিন্তু, কাঠের দাম তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি ও আর্দ্রতার কারণে এর গঠনে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।  

ভিনিয়ার বোর্ড 

ভিনিয়ার্ড বোর্ড
ভিনিয়ার্ড বোর্ডের দরজা পাওয়া যাবে সাশ্রয়ী দামে

বাড়ির ভেতরের ঘরগুলোর দরজা তৈরিতে ভিনিয়ার বোর্ড বেশ জনপ্রিয়। অনেকে সদর দরজাও এ বোর্ড দিয়ে তৈরি করেন। এগুলোর সাশ্রয়ী মূল্য অবশ্যই একটি বড় কারণ। তবে আমাদের মৌসুমী আবহাওয়ার উপযোগী দরজা তৈরিতেও এটি উপযোগী। তাপমাত্রা বা আর্দ্রতার কারণে ভিনিয়ার বোর্ডের তৈরি দরজার সংকোচন-প্রসারণ ঘটলেও কোনো গঠনগত ত্রুটি দেখা যায় না। এছাড়া এ বোর্ডের ফিনিশিং ভালো বলে রং করলে দারুণ দেখায় ও কাটলেও মসৃণ টুকরো পাওয়া যায়। কেনার সময় অগ্নি নিরোধক, পানি নিরোধক গুণাবলি দেখে কিনলে এবং পরবর্তীতে যত্ন নিলে ভিনিয়ার বোর্ডের তৈরি দরজাও টেকসই হয়। আমরা যারা জীবনযাপনে ‘লো ওয়েস্টেজ’ নীতি মানতে আগ্রহী, তাদের জন্যও এটি দারুণ উপায়। কারণ কাঠের ফার্নিচার বানানোর সময় যে ছোট টুকরা ও মিহি গুঁড়া পাওয়া যায়, তা থেকে ভিনিয়ার বোর্ড তৈরি হয়। কিন্তু এর কিছু অসুবিধাও আছে। যেমন ভিনিয়ার বোর্ড ভারী ও পুরু, তাই এতে স্ক্রু বা তারকাটা ঢোকানো খানিকটা জটিল। 

প্লাইউড

প্লাইউড
মসৃণ সারফেস হওয়ায় প্লাইউড থেকে যেকোনো দাগ উঠানো যায় সহজেই

প্লাইউড, বিশেষত মেলামাইন প্লাইউডের তৈরি দরজাও শহুরে বসতবাড়িতে প্রায়ই দেখা যায়। এটিও ভিনিয়ার বোর্ডের মতো দামে সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও মৌসুমী আবহাওয়ার জন্য উপযোগী ম্যাটেরিয়াল। এছাড়া মসৃণ সারফেস হওয়ায় প্লাইউড থেকে যেকোনো দাগ উঠানো যায় সহজেই, যা ভিনিয়ার বোর্ডের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তবে কাটলে মসৃণ কোণা পাওয়া যায় না, তাই এটি ব্যবহার করতে তেমন আরামদায়ক নয়। 

অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল 

কাঁচের দরজা
বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লিভিং রুমে, সবুজ লনের পাশে অনেক সময় স্বচ্ছ দরজা বানানো হয়

সিকিউরিটি ডোর বা গ্যারেজের দরজা তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লিভিং রুমে, সবুজ লনের পাশে অনেক সময় স্বচ্ছ দরজা বানানো হয়। এজন্য কাঁচ, এল ই ডি লাইট গ্লাস, স্টেইনড গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। ভিনাইল, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে এসব দরজার ফ্রেম বানানো হয়। আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ তৈরির জন্য অনেকে দরজার ফ্রেমে লাইটের ব্যবস্থা করেন, অনেকে আয়না বা রংয়ের বিন্যাসে কাঁচের দরজা সাজান। 

দরজার রং নিয়ে যত সতর্কতা

ক্ল্যাসিক নাকি ভিন্নধর্মী? 

নীল দরজা
দরজার রংই হতে পারে আপনার ভিন্নধর্মী রুচি তুলে ধরার দারুণ এক মাধ্যম

দরজার সাজ  এ রং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। দরজার রংয়ের ক্ষেত্রে ক্ল্যাসিক প্যালেটগুলো ব্যবহার করতে চাইলে বেছে নিতে হবে ব্রাউন, কালো বা গ্রে’র নানা শেড। আমাদের দেশে সাধারণত কাঠ বাদামি রংয়ের দরজার প্রচলনই বেশি। তবে হাল আমলের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতি যাদের আগ্রহ বা থিমেটিক আবহে ঘর সাজিয়েছেন যারা, তারা বেছে নিতে পারেন গাঢ় হলুদ, লেমন ইয়োলোর কোনো শেড, ক্রিমসন রেড, নেভি ব্লু বা সাদা। দরজার রংই হতে পারে আপনার ভিন্নধর্মী রুচি তুলে ধরার দারুণ এক মাধ্যম। আরো একটি বিষয় এখানে বলে রাখি, দরজার রং কিন্তু আপনার ঘরকে বড়-ছোট দেখাতে সহায়ক হতে পারে! যেমন দরজার ফ্রেম,নব আর দরজা যদি একই রংয়ের হয়, তবে মনোক্রোমাটিক আবহের কারণে ঘর বড় দেখাবে। আবার অনুষঙ্গ আর দরজার রংয়ে কনট্রাস্ট থাকলে তা আশেপাশের পরিবেশ থেকে দরজাকে আলাদা করে তুলে ধরে ও বিশাল দরজাকেও আকারে খানিকটা ছোট দেখায়। 

রংয়ের উপাদান 

দরজার রং
মাদের মৌসুমি আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করলে বলা যায়, ল্যাটেক্স এক্সটেরিয়র পেইন্ট ব্যবহার করা শ্রেয় কারণ পানিতে ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা তাতে কমে যায়

সদর দরজার রংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এ দরজার রং উঠে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই তুলনামূলক ভাবে বেশি। আমাদের মৌসুমি আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করলে বলা যায়, ল্যাটেক্স এক্সটেরিয়র পেইন্ট ব্যবহার করা শ্রেয় কারণ পানিতে ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা তাতে কমে যায়। আর মেটালে তৈরি দরজায় মরিচা রোধক রং ব্যবহার করলে উপকারী হয়। রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই সস্তা মূল্যের কথা ভেবে লেড (সীসা) বেজড রং দরজার ফ্রেমে ব্যবহার করে। কিন্তু এ রং থেকে নির্গত সীসা বাতাসে মিশে শিশুর বিকাশ ও গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যঝুকির কারণ হয়। এছাড়া দরজা রং করার পর এর ওপর গ্লসি, সেমি গ্লসি, ম্যাট ইত্যাদি এক্সটেরিয়র ফিনিশ দেয়ার সময় ঘরের ডেকোরেশন, আবহের দিকে নজর রাখা উচিত। যেমন বাঙ্গালিয়ানা সাজের বাড়িতে ম্যাট মেরুন দরজা ভালো না’ও লাগতে পারে, আবার ইউরোপিয়ান রাস্টিক ডেকোরে ম্যাট মেরুন দরজা দারুণ মানিয়ে যাবে। 

রং করার পর অনেকে ওপরে স্টেনসিল ডিজাইন, ট্রান্সপারেন্ট স্টিকার, ডেকোরেটিভ ওইয়ালপেপার ব্যবহার করেন। এসবেও থাকে ভিন্নতা। কেউ বেছে নেন ফ্লোরাল অয়ালপেপার, কারো দরজায় শোভা পায় ওয়েলকাম লেখা ট্রান্সপারেন্ট স্টিকার। 

দরজার লক বাছাই

দরজার লক
দরজার সাজ এর অংশ হিসেবে লক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

দরজার সাজ এর অংশ হিসেবে লক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একদিকে ঘরের নিরাপত্তার জন্য লকের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি, আবার দরজা দেখতে কেমন হবে সেটিও কিন্তু লকটি কতটা মানানসই হলো তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। লক বিভিন্ন রকমের হয়। ঘরের দরজার জন্য লক যেমন হওয়া চাই তা নিয়ে আমাদের ব্লগে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রয়েছে। বাজেট, নিরাপত্তা ইত্যাদি ভেবে লক বেছে নেয়ার সময় দরজার রং, ঘরের আবহ, লকের ম্যাটেরিয়াল ইত্যাদি মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না। যারা আঁকতে ভালোবাসেন এমন অনেকেই দরজার নবে রং করে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। 

সৌন্দর্য হোক সঙ্গী 

পর্দা

দরজায় পর্দা
দরজায় পর্দা আনতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আমেজ

ঘরের জন্য মানানসই পর্দা বাছাই করা বেশ জটিল। তবে দরজায় পর্দা আনতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আমেজ। ভাবুন দেখি, সাদা পর্দার আড়ালে লাল টুকটুকে দরজা বা নীল পর্দার পাশে আপনার লেমন ইয়োলো দরজাটি কী দারুণ দেখাবে! তাই দরজার পর্দা নির্বাচনের সময় রংয়ের ব্যাপারটি দরজার সাজ এ বড় ভূমিকা রাখে। ফেব্রিক প্যাটার্ন কেমন হবে সেটিও ভেবে নিতে হবে আগেই। ঘরের বাসিন্দার মানসিকতা, ঘরের সাজসজ্জার ধরন, দরজার রং ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে পর্দার ফেব্রিক ফ্লোরাল হবে নাকি জিওমেট্রিক! নাকি শুভ্র সাদাতেই ফুটে উঠবে দরজার সবটুকু সৌন্দর্য! 

গাছ ও ফুল 

দরজার পাশে গাছ
নডোর প্ল্যান্টে দরজা সাজানোর রীতি শুধুমাত্র সদর দরজায়ই দেখা যায়

জায়গা থাকলে আপনার শোবার ঘরে ঢোকার দরজার পাশেও এক টুকরো সবুজ রাখতে পারেন আপনি। তবে শহুরে বাসাগুলোয় জায়গার স্বল্পতা লেগেই থাকে, তাই ইনডোর প্ল্যান্টে দরজা সাজানোর রীতি শুধুমাত্র সদর দরজায়ই দেখা যায়। যেসব দরজায় প্রচুর আলো বাতাস পৌঁছায়, সেসব বাড়ির বাসিন্দারা হ্যাঙ্গিং ক্লিপ লাগিয়ে পোথোস জাতীয় গাছ ঝুলিয়ে দেন দরজায়। আবার কেউ কেউ দরজার পাশে মাঝারি সাইজের স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, পিস লিলি, ক্যাক্টাস-সাকুলেন্ট রেখে ইট-কাঠের শহরে সবুজের জয়গান গেয়ে যান নিজস্ব সুরে। 

চাইলে ফুলেল শোভায়ও দুয়ার সাজাতে পারেন আপনি। তাজা ফুলের গুচ্ছ নানা ভাবে দরজায় ঝুলানোর উপায় তো রয়েছেই, সেইসাথে শুষ্ক ফুল বা কৃত্তিম ফুলও হতে পারে দারুণ অনুষঙ্গ। ‘রিইউজ বা পুনঃব্যবহারের’ নীতিতে বিশ্বাসী যারা, তারা চটজলদি কিছু তাজা ফুল পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে নিয়ে দরজায় সেঁটে দিতে পারেন। ইন্টারনেট ঘাটলে এমন আরো নানা উদাহরণ পাওয়া যায়। কেউ পুরোনো পাইপ আর শুষ্ক ফুল দিয়ে বানাচ্ছে দরজায় ঝোলানোর ডেকোরেটিভ পিস। আবার কারো সৃজনশীলতায় রঙ্গিন ছাতার মাঝে এক গুচ্ছ ফুল হয়ে উঠেছে দরজা সাজানোয় নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার। 

ডোরম্যাট বা পাপোষ

ডোরম্যাট
ডোরম্যাট বা পাপোষ ঘরে প্রবেশের মূহুর্তে অতিথিকে সরাসরি স্বাগত জানাতে পারে, তেমনি পৌঁছে দিতে পারে আপনার দেয়া সরাসরি কোনো বার্তা

ডোরম্যাট বা পাপোষ ঘরে প্রবেশের মূহুর্তে অতিথিকে সরাসরি স্বাগত জানাতে পারে, তেমনি পৌঁছে দিতে পারে আপনার দেয়া সরাসরি কোনো বার্তা। কীভাবে সেটি সম্ভব সেটি হাল আমলের পাপোষগুলো দেখলেই বুঝবেন। কোনোটিতে লেখা ‘ওয়েলকাম’, কোনোটিতে বলা হয়েছে ‘জুতা বাইরে রাখতে ভুলবেন না’! তবে পাপোষের উপকরণ বা ডিজাইন কিন্তু ঘরের আবহ কেমন সেটিও তুলে ধরে। দেশীয় সাজের ঘরের দরজায় খুঁজে পাওয়া যায় নকশি কাথার বা পাটের বুননের পাপোষ, আবার ‘ফাংকি’ ডেকোর যাদের পছন্দ, তারা উজ্জ্বল রংয়ের ও মজার উক্তি লেখা ডোরম্যাট রাখতে পারেন দরজায়। 

আলোকসজ্জা

স্ট্রিং লাইট
দরজা সাজাতে ব্যবহার করতে পারেন ফেয়্যারি লাইটস, স্ট্রিং লাইটস, নিয়ন স্টিকার ইত্যাদি

ঘরের দরজায় খানিকটা ভিন্ন আলোর ব্যবস্থা করলে দরজার সাজ আরো স্পষ্ট ভাবে অভ্যাগতর কাছে তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন ফেয়ারি লাইটস, নিয়ন স্টিকার ইত্যাদি। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন আকৃতির ও রংয়ের ফেয়্যারি লাইটস পাওয়া যায়, যা ঘরের আমেজের সাথে মানানসই হলে সত্যিই দারুণ মনোরম হবে।  

নেমপ্লেট বা ট্যাগ 

ওয়েলকাম
আবার কেউ নামের বদলে কাঠের ফ্রেমে, শক্ত কাগজে লেখেন ‘ওয়েলকাম’ বা স্বাগতম।

সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে যেকোনো সময় ‘পার্সোনাইলেজেশন’ বা ‘ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের প্রকাশ’ এর গুরুত্ব অনেক। দরজার সাজ এ নেমপ্লেট বা ট্যাগ সেই পার্সোনাইলেজেশনেরই প্রতীক। আমরা সাধারণত সোনালি-রুপালি ফলকে বা মার্বেলের ফলকে বাড়ির মালিকের নাম দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু খানিকটা সৃজনশীলতার ছোঁয়া নেমপ্লেটকেও করতে পারে আরো একটু আকর্ষণীয়। যেমন মানানসই কাঠের লেটার ব্লক দিয়ে নিজের ও সংগীর নাম লিখতে পারেন দরজায়। বাইরের দেশগুলোতে ইদানিং ‘মস লেটারিং’ এর চল দেখা যায়। এটি মূলত কাঠের ব্লকের ওপর কৃত্তিম মস বা ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি অক্ষর। এসব দিয়ে দরজায় লেখা হয় বাসিন্দার নাম। অনেকে নেমপ্লেটের বদলে ছবির ফ্রেম যোগ করেন দরজায়, কেউ ঝুলিয়ে দেন ছোট্ট একটি স্মৃতিচিহ্ন। আবার কেউ নামের বদলে কাঠের ফ্রেমে, শক্ত কাগজে লেখেন ‘ওয়েলকাম’ বা স্বাগতম। 

গারল্যান্ড ও রিথ 

দরজায় রিথ
রিথ হিসেবে কেউ কেউ দরজায় ঝোলান ফুলের তোড়া

গারল্যান্ড মূলত দরজার ওপরের এক কোণা থেকে আরেক কোণা পর্যন্ত ঝোলানো এক ধরনের ডেকোরেটিভ পিস। গারল্যান্ড হিসেবে কেউ ব্যবহার করেন শুষ্ক ফুলের তোড়া, ভ্রমণপ্রেমীদের ঘরে গারল্যান্ডের জায়গায় স্থান পায় পাহাড়ি দেশের প্রেয়ার ফ্ল্যাগ। ইদানিং আমাদের দেশে তালপাতা ও পাটের তৈরি দেশীয় নানা উপকরণের সাথে সাদৃশ্য রেখে ডোর গারল্যান্ড তৈরি করা হচ্ছে। রিথ আবার দরজার মাঝামাঝি ঝুলিয়ে রাখা ছোট্ট এক ধরনের ডেকোরেটিভ পিস। রিথ হিসেবে কেউ কেউ দরজায় ঝোলান ফুলের তোড়া। দেশী আবহে ঘর সাজান যারা তারা রাখতে পারেন মুখোশ, মাটির বা কাঠের আয়না, পটে আঁকা ছবি ইত্যাদি। 

ঘরে ঢোকার মুখে কিন্তু অতিথির প্রথম সাক্ষাত হয় আপনার দরজার সাথেই! তাই দরজার সাজসজ্জায় রুচি আর সৃজনীশক্তির মিশেল একদমই কম জরুরি নয়। আপনি চাইলেই একঘেয়ে দরজাগুলোয় অল্প কিছু উপাদান যোগ করে বৈচিত্র আনতে পারেন আজই! আর যদি নতুন বাড়ি কেনেন তবে দরজার গঠন থেকে রং- সবটাতে কীভাবে ভিন্নতার ছোঁয়া দেয়া যায় তা তো বলেই দিলাম। আপনিও কমেন্টে জানিয়ে দিন কেমন লাগলো দুয়ার সজ্জার এই সাতকাহন! 

 

Write A Comment