Reading Time: 4 minutes

বাঙালিদের এমনিতেই বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগে থাকে, তাঁর ওপর কিছু চমৎকার রেস্তোরাঁগুলো প্রতিনিয়ত বাধ্য করে উৎসবে খাওয়া কিংবা উৎসব বানিয়ে নিয়ে খেতে যাওয়া। কেবল সুস্বাদু খাদ্যই পারে পেট আর মন এক সাথে ভরে দিতে। ঢাকা শহরে কাজের ফাঁকে, নিজের করে সময় পেতে পরিবার প্রিয়জন নিয়ে পাড়ি জমাতে হয় এই সকল রেস্তোরাঁয়। সুস্বাদু খাবারের সাথে নান্দনিক পরিবেশে, হেঁসে খেলে ছবি ধরে রেখে নিজের কিছু সময় খুঁজে নিতে এই পাঁচটি রেস্তোরাঁয় যাওয়া চাই ই চাই। যারা বনানীর বাসিন্দা,অফিস বা ঘুরতে আসার জন্য এ এলাকটি খুবই চমৎকার। কেবল ঘুরলে না মন ভরবে না পেট, তাই চলুন জেনে আসি বনানীর কোন সে পাঁচটি রেস্তোরাঁ যেখানে এক চক্কর দিতেই হবে।

চিলিং প্লেস – চিলক্স

বার্গার প্রেমীদের জন্য সুখবর রয়েছে, কামাল আতাতুর্কে হোটেল সারিনার নিকটে অবস্থিত “চিলক্স” রেস্তোরাঁর সুনাম হয়েছে খুব অল্প সময়ে। তাদের নিজস্ব স্টাইল ধরে রেখে রসালো বার্গার গুলো বানিয়েছে যা ইতিমধ্যে খাদ্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছ। এক্সট্রা চিজ, স্যসেজ প্যাটিস এমনকি নাগা ফ্লেভারে তৈরি বার্গার গুলো যেন খাদ্যে যোগ করে একাধিক মাত্রা। এত চটপটে আর ঝাল  বার্গার খেয়ে জিব তপ্ত হয়ে গেলে ভয় নেই, ম্যেনুতে আছে মজাদার হিম ঠাণ্ডা করা কিছু পানীয় ও শেইকস। এ সবি আপনি পাবেন সাশ্রয়ী মূল্যে যাতে করে শিক্ষার্থী থেকে চাকুরীজীবী সবাই পেতে পারেন এর অভিজ্ঞতা। বনানীর মত অভিজাত এলাকায় চিলক্স নির্দিধায় একটি চিলিং প্লেস’।

সময় নিয়ে – টাইম আউট

সময় নিয়ে সময়ের সাথে দৌড়ানো হয়ে ওঠে না, সকলে যেন অদৃশ্য ট্রেনের পেছনে ছুটে চলছে। এমন অবস্থায় ক্ষুদা কার না লাগবে? আর সেই ক্ষুদার পেট যদি ঠিক ততোটাই মজার কিছু দিয়ে ভরিয়ে দেই কেমন হয়? তাহলে “টাইম আউট” সেরা উদাহরণ। যদি একজন খাদ্যরসিক হয়ে থাকেন, বনানীর ১৯/এ, তে অবস্থিত টাইম আউট থেকে ঘুরে আসাটা খুব ই জরুরী । যথা-উপযোগী ম্যেনু নিয়ে তাদের ভেতরকার পরিবেশও বেশ আরামদায়ক। এমন পরিবেশে সুস্বাদু খাবার খেতে কে না ভালবাসে। এমন অনায়াসে হবে আপনি একবার এসে ঘুরে যাবেন বারংবার।

সামুদ্রিক খাবার – ম্যানহাটন ফিশ মার্কেট

সমুদ্রের কুল ঘেঁষা দেশ বলেই হয়তো বা মজাদার মাছের জন্যই অনেকেরই প্রিয় সামুদ্রিক মাছ। তাই বলেই তো কে কত রকমের মাছ ও অন্যান্য খাবার খেয়েছেন তাঁর হিসেব ঠিক মনে মনে রাখা থাকে। কিন্তু কয়জনই বা সমুদ্রের কাছে গিয়ে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ ভরপুর নিতে পেরেছেন? কখনো কখনো সময় হয়ে ওঠে না আবার সময় থাকলেও থেকে যায় নানান সমস্যা। তারপর যারা ঘরের দোয়ারে থেকে এই মজাদার খাবার খেতে চান তাদের জন্য, বনানীর কামাল আতাতুর্কে আছে জমজমাট এই ফিশ মার্কেট। যেখানে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার প্রিয়জন নিয়ে কাটানো যাবে সিন্দুকে তুলে রাখার মত একটি সময়। তরতাজা মাছ গুলো সরাসারি সমুদ্র থেকে আনা না হলেও স্বাদে কোন অংশেই কম নয়। সামুদ্রিক মাছের এমন সম্ভার মেলা ভার একবার নয় খাওয়া হবে বারে বার।

ওরিয়েন্টাল কুইজিন – ইয়াম চা ডিসট্রিক্ট

ঢাকা শহরে অনেক আগে থেকেই আড্ডা জমিয়ে ছিল চাইনিজ এবং থাই রেস্তোরাঁ গুলো কিন্তু, হুট করে যেন এক পরিবর্তন এসে গেলো খাবারে। আঞ্চলিকতা থেকে খানিকটা বেড় হয়ে ওরিয়েন্টাল ধাঁচে ইয়াম চা ডিসট্রিক্ট চলে আসলো। অনেকটা শক্ত জায়গা দখল করেছে খুব অল্প সময়ে। একাধিক শাখা নিয়ে বলতে গেলে রাজত্ব করে যাচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের সাথে পাওয়া যাচ্ছে ডিম, মুরগি ও গরুর মাংসসহ নানা সবজি জাতীয় আইটেম। তাই দেরি না করে একটু আগে বাগেই চলে যেতে হবে ধানমন্ডি কিংবা বনানীর শাখায়, আগে বাগে কেন? একটু বেশিই ভিড় লেগে থাকে।

স্টেইক – উডহাউজ গ্রিল

বনানী ১১ তে অবস্থিত উডহাউজ গ্রিল খুব কম সময়ে অনেকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রিল স্টেইক যোগ করেছে আমাদের ম্যেনুতে নতুন স্বাদ। চিরচায়িত মাংসকে ভিন্ন ভাবে পেশ করার অনন্য প্রণালি হলো স্টেইক, তাঁর মধ্যে তাকে গ্রিল করে যেন একের মধ্যে একশ পাবার যোগার। স্টেইক প্রিয় হোক না হোক স্টেইক গ্রিল অবশ্যই একবার খেয়ে দেখাই যায়। কেননা তারা আপনাকে আপনার স্টেইক নিজেই পছন্দ করবার সুযোগ দিবে, স্টেইক গুলো তারা বিভিন্ন আকারে কেটে পেশ করে আপনি চাইলেই নিজের পরিমানমত পছন্দ করে নিতে পারবেন। এরপর তা গ্রিল করে পেশ করা হবে আপনার টেবিলে। তারপরের কথা আপনি নিজেই জেনে যাবেন, এত সুস্বাদু স্টেইক যেন আর হয় না বনানী এলাকায়। তাই দেরি না করে ঘুরে যাওয়া চাই।   

খাবারের যেমন ভ্যারাইটি আছে এ এলাকায় তেমনি স্বাদেও সেরা। সময় করে একবার চেখে না দেখলে নিজেই বুঝতে পারবেন কেন বলছি! ঘুরে এসে কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন আমাদের জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

 

Write A Comment