Reading Time: 4 minutes

আভিজাত্য ও সামর্থ্যের মধ্যে সেরা যোগসূত্র স্থাপন করেছে ঢাকা অন্যতম এলাকা বনানী। শক্তিশালী ব্যবসায়িক ক্ষেত্র, নামি দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চমৎকার সব রেস্তোরাঁ এবং অধিক নিরাপদ বিদেশী দূতাবাস নিয়ে স্বয়ংসম্পুর্ন একটি আবাস স্থল। সে জন্য হয়তো বনানী একটি কাঙ্ক্ষিত আবাস স্থলে পরিণত হয়েছে যেখানে বসবাসের স্বপ্ন অনেকের। যারা ইতিমধ্যে নিজের ঠিকানায় পাড়ি জমিয়েছে তাঁরাও যেন বনানীতে স্থানান্তরিত হবার স্বপ্ন দেখছেন। বনানী বলতে বুঝায় এমন ই এক ছিমছাম শান্তিপূর্ন এবং একের মধ্যে সব। তাহলে জেনে নেয়া যাক বনানী কেন এমন করে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। লেখাটি চোখ বুলিয়ে গেলেই জেনে নেওয়া যাবে কি আছে এই সুন্দর এলাকায়।  

পরিপাটি অবকাঠামো

গোছানো পরিকল্পিত পিচ ঢালা পথ দেখে মন হতেই পারে, গাড়ি থেকে নেমে খালি পায়ে হেঁটে গেলে মন্দ হবে না! পিচ ঢালা পথ গুলো এতই ভালো অবস্থায় আছে যে পথে অনেক সময় কেটে গেলেও খুব বেশি অনুভব হবে না যে আপনি গাড়িতে রাস্তার ওপর বসে আছেন। পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, শক্তিশালী অবকাঠামো নিয়ে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলো যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি প্রচুর চাহিদা সম্পন্ন। এইসব ক্ষেত্রগুলোই বনানীকে করেছে বসবাসের জন্য সেরা এবং চাহিদাময়। এছাড়া বনানী শহরের অন্যতম  বন্যা প্রতিরোধী এলাকা যেখানে বসবাসে থাকবে না পথ ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় এবং সর্বক্ষণ থাকবে আপনার বাসার নলে থাকবে পানি। আমরা নিজের জন্য আবাস খুঁজতে এই বিষয় গুলোই বেশি প্রাধান্য দেই এবং এই বিষয় গুলোই যখন বনানী এলাকায় পাচ্ছি কেন না আমরা এখানেই থেকে যাই।

খোলা মাঠ এবং পার্ক

ইমারতের শহরে থেকে আমরা প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে উঠি, তখন কিন্তু প্রকৃতিতে ফিরে যাই বারংবার। কিন্তু সব শহরের সব এলাকায় এই সুবিধা নেই বললেই চলে, যেখানে দু-ডন্ড শ্বাস নিব বুক ভরে। কিছু কিছু এলাকায় সবুজ মাঠ বা পার্ক রয়েছে , অশেষ ধন্যবাদ বনানী সেই সব এলাকার মধ্যে পড়ছে। সবুজ ঘাস, নান রঙের ফুল আর গাছের ছায়ার বসে থাকা এই যান্ত্রিক জীবনে উষুধের মত কাজ করে। বড়দের চোখ সবুজে জুড়ালেও ছোটদের জন্য প্রয়োজন মাঠ যেখানে তারা দাপরিয়ে বেড়াবে। বাচ্চারা যদি মাঠে খেলতেই না পারে তাদের দৈহিক বিকাশ যেমন ঘটে না তেমনি মানুষিক ভাবেও তারা নিজেদের শক্তিশালী ভাবতে পারে না। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, যারা এই এলাকার বাসিন্দা তাঁরা দুটো সুবিধাই পাচ্ছেন। সেই সাথে আছে বনানী সয়াট এফসি ফিল্ড যারা সবসময় ফুটবল খেলা আয়োজন করে যাচ্ছে রোজ তাইলে ছোটরা যেমন খেলতে পারবে তেমনি বড়রা তা দেখে উপভোগ করে কাটাতে পারবে তাদের সময়। আপনার সময় খুব সুন্দর ভাবে কেটে যাবে এমন একটি জায়গা  বৈশাখী পার্ক।

বিখ্যাত সব রেস্তোরাঁ

একটি অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য বনানীতে থাকার তাহলো, খাবারের সব রেস্তোরাঁ সমূহ। এমন অনেক বিখ্যাত রেস্তোরাঁ আছে যেখানে সবসময়ই ভিড় লেগেই থাকে। উৎসব হোক অথবা বন্ধু বান্ধব নিয়ে সময় কাটানো এই রেস্তোরাঁ গুলোই আমাদের শেষ আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইসব রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় ওরিয়েন্টাল, মেক্সিকান, ইন্ডিয়ান ও ফাস্ট ফুডসহ বাংলাদেশীয় খাবার। শুধু যে খাবারের টানে ছুটে যাওয়া তা নয় বন্ধু-বান্ধবের সাথে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য শ্রেষ্ঠ অপশন হয়ে ওঠেছে এই রেস্তোরাঁ গুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি অফিস গুলোর সংখ্যা একটু বেশি থাকায় সকল ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তারা আড্ডা জমায় রেস্তোরাঁ গুলোতে। এই রেস্তোরাঁগুলো এলাকায় নিয়মিত আসা মানুষদের পাশাপাশি দূরে থাকা বাসিন্দাদেরও আকর্ষণ করে থাকে কেন না খাবারের পাশাপাশি একটি মনোরম পরিবেশও তাঁরা অফার করে থাকে যার দরুন দূর দূরান্তর থেকে মানুষ আসতে অনেকটা বাধ্যই হয়। এই জন্য হয়তো বনানী ঘুরতে,খেতে এবং থাকতে সকলের প্রিয়।  

নামি দামি পোশাকের দোকান

কেনাকাটা বাঙালির অনেক প্রিয় একটি কাজ, সময় অসময় সকলে মিলে কিংবা একা একা বেড়িয়ে পড়ে সবাই। সময়ের দাবিতে সকলেই ফ্যাশন আর ট্রেন্ডেস নিয়ে অনেকটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন। অনেকেই এমন একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড চান যেখানে পরিমার্জিত পোশাকের পাশাপাশি হাল ফ্যাশনের ছোঁয়াও থাকবে। বনানীতে এমন অনেক ফ্যাশন ব্র্যান্ড আছে যেখানে সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বয়স ভেদে সকলের জন্য পোশাক রয়েছে। যেহেতু অনেক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে তাই ঘুরে ফেরে সময় নিয়ে পছন্দমত কেনার সুবিধা বনানীর ১১ নং রোডেই আছে। খুব অল্প দূরত্বে আপনি পেয়ে যাবেন অনেক অনেক অপশন। দেশি থেকে শুরু করে অনেক বিদেশী ব্র্যান্ডের দোকানও মিলবে সেই একি রোডে। ঢাকা শহরে যদিও অনেক শপিং কমপ্লেস রয়েছে কিন্তু দূরত্ব ভেদে এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো অনেকটাই উপকারে আসে এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। তাই কেনাকাটার উপাদান অনেক ই আছে বনানীতে বলাই যাই।

নিরিবিলি বসবাসের পরিবেশ  

এ এলাকায় অফিসের সংখ্যা বহু হলেও আবাসিক এলাকা হিসেবে খুব ই চাহিদা রয়েছে। বিশাল সংখ্যায় ফ্ল্যাট বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন সবসময়ই চোখে পড়ে এমনকি ফ্ল্যাট ভাড়ার সম্ভাবনাও ব্যাপক। চুপচাপ ছিমছাম এ এলাকাটা তাদের জন্য একদম পারফেক্ট যারা নিরিবিলি থাকতে চান। শহরের কেন্দ্রে হওয়া সত্তেও অনেকটাই নিরিবিলি এ এলাকাটি। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ এলাকাটিতে দুই ভাগে ভাগ করেছে, উত্তর ভাগটি আবাসিক এলাকা হিসেবে খ্যাত আর দক্ষিণ ভাগটি আবাসিক এবং বাণিজ্যিক হিসেবে পরিচিত। যার দরুন, উত্তর পাশটি বেশি নীরব ও নিরিবিলি তবে নিরাপত্তার দিক দিয়ে সম্পূর্ন বনানীই অনেকটা নিরাপদ। এলাকায় ঢুকতেই সামনে পড়বে পুলিশ চেকপোস্ট এমন প্রায় রাস্তায় রয়েছে পুলিশি পাহারা। সব মিলিয়ে এলাকা একটি স্বয়ংসম্পূর্ন ঠিকানা হতে পারে।

অনেকেই বনানী এলাকাটি বসবাসের জন্য পছন্দ করে থাকেন। আবাসস্থল হোক কিংবা অফিস সবভাবেই নাগরিক জিবনের সকল চাহিদা মেটায় এ এলাকাটি। শুধু যে বসবাসের জন্য সেরা তানয় ঘুরে দেখার জন্যও সেরা। তাহলে একবার দেখেন আপনি কোথায় থাকবেন!

Write A Comment