Reading Time: 3 minutes

বাড়ি নির্মাণের পূর্বে বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নেয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্মাণ কাজ শুরুর আগে এই পরীক্ষাগুলো করার ফলে উক্ত এলাকার কাঠামোগত ভিত্তি এবং কন্সট্রাকশন সাইটের জন্য জায়গাটা কতটা উপযুক্ত তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। কাঠামো ডিজাইন করা থেকে শুরু করে, ফাউন্ডেশন এবং স্ল্যাব ডিজাইন ইত্যাদি কাজের জন্য এই তথ্য গুলো বেশ সহায়তা করে থাকে। আর এ সকল তথ্য অনুসন্ধান করেই সয়েল ইঞ্জিনিয়াররা নির্ণয় করতে পারেন যে, মাটিতে ঘনত্ব অথবা উক্ত স্থানে বিদ্যমান বিষাক্ত পদার্থ বাড়ি নির্মাণের জন্য উপযুক্ত কিনা। আর তাই পরবর্তী সময়ে এসব সমস্যার সম্মুখীন যেন হতে না হয়, তাই বাড়ি নির্মাণের পূর্বে করণীয় পরীক্ষা সমূহ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। 

আর্দ্রতা পরীক্ষা করা

মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা
মাটিতে পানির ওজন নির্ধারণের জন্য নির্মাণের আগে আর্দ্রতা পরীক্ষা করা জরুরি

বাড়ি নির্মাণের সময় মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতার উপস্থিতিতে মাটির  বিস্তার লাভ করা অথবা ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তাই, মাটিতে পানির ওজন নির্ধারণের জন্য নির্মাণের আগে আর্দ্রতা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রক্রিয়া সমূহের মাধ্যমে নির্মাণের আগে এই পরীক্ষাগুলো করানো হয় –   

  • ওভেন ড্রাইং প্রক্রিয়া
  • রেডিয়েশন প্রক্রিয়া
  • অ্যালকোহল প্রক্রিয়া
  • ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রক্রিয়া
  • স্যান্ড বাথ প্রক্রিয়া 
  • পিকনোমিটার প্রক্রিয়া 
  • টোরশন ব্যালেন্স প্রক্রিয়া 

উপরে উল্লেখিত এই প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে ওভেন ড্রাইং প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে প্রথমে মাটির নমুনা নিয়ে তা ওজন করা হয়  এবং পরবর্তীতে  ওভেনে  ১১০° সেলসিয়াস বা এর চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি তাপে শুকিয়ে নেয়া হয়। আর এই দুই ধাপে ওজনের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় সেটি মূলত পানির ওজন।

গ্র্যাভিটি পরীক্ষা 

বাড়ি নির্মাণের পূর্বে পানির সাথে মাটির সম্পৃক্ততা নির্ধারণের জন্য কিছু পরীক্ষা করানো অপরিহার্য। যা মাটির গুণগত অবস্থা এবং এর মধ্যে কী ধরনের ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি হচ্ছে তা নির্ধারণে সহায়তা করে। যেকোন পদার্থের ঘনত্বের সাথে পানির ঘনত্বের অনুপাত এর গ্র্যাভিটি নির্ণয়ে সহায়তা করে। এই পরীক্ষায় ঘনত্ব বোতল এবং পাইকনোমিটার পদ্ধতি বেশ প্রচলিত। এছাড়া গ্যাস জার পদ্ধতি, সংকোচন সীমা পদ্ধতি এবং ফ্লাস্ক পরিমাপ পদ্ধতির মাধ্যমেও এই পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করা যায়।

ড্রাই ডেনসিটি পরীক্ষা

ড্রাই ডেনসিটি পরীক্ষা
মাটির কণার ওজন এর ঘনত্ব কতটা তা বাড়ি নির্মাণের পূর্বে পরীক্ষা করা হয়

মাটির ঘনত্ব যদি বেশি হয় তবে এর মানে মাটিতে ছিদ্র রয়েছে এবং এতে করে মাটির সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এটি মাটিতে পানির ধারণ ক্ষমতা এবং মাটির মধ্য দিয়ে বাতাস এবং পানির প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। আর তাই, এ ধরনের সমস্যাগুলো এড়াতে নির্মাণের আগে ড্রাই ডেনসিটি পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। নমুনার জন্য নেয়া মাটির কণার ওজন এর ঘনত্ব কতটা তা প্রকাশ করতে পারে। মাটির ঘনত্ব স্তরকে ভাগ করতে এই পরীক্ষা করানোর জন্য প্রয়োজন বালি প্রতিস্থাপন, কোর কাটার অথবা পানির স্থানচ্যুতি পদ্ধতি। তবে এর মধ্যে শুষ্ক ঘনত্ব পরীক্ষার জন্য বালি প্রতিস্থাপন এবং কোর কাটার পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

এটারবার্গ লিমিট পরীক্ষা 

এটারবার্গ লিমিট পরীক্ষা
সূক্ষ্ম দানাযুক্ত মাটিতে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে এই পরীক্ষা করা হয়

বাড়ি নির্মাণের পূর্বে একটি বাড়ির কাঠামোগত নকশার প্রাথমিক পর্যায়ে এটারবার্গ লিমিট পরীক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্মাণের আগে সূক্ষ্ম দানাযুক্ত মাটিতে পানির পরিমাণ কত তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্মাণের আগে নির্ধারণ করা যায়। এটি মাটির কার্যক্ষমতাও নিশ্চিত করতে পারে। এই পরীক্ষার তিনটি লিমিট রয়েছে- তরল লিমিট, প্লাস্টিকের লিমিট এবং সংকোচনের লিমিট। এই লিমিটগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন অবস্থায় মাটির বৈশিষ্ট্য কেমন থাকে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

প্লাস্টিক লিমিট পরীক্ষা প্রধানত পানি এবং মাটি ব্যবহার করে মাটিকে প্লাস্টিকে পরিণত করতে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে, মাটি একটি বলের মতো আকার ধারণ করে এবং একটি কাঁচের প্লেটে রাখা হয়। অতঃপর এটি একটি ৩ মিলিমিটারের ডায়ামিটারের থ্রেড তৈরি করে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে যতক্ষণ না মাটির এই থ্রেডে বাঁধা না পড়ছে।

নির্মাণের আগে মাটির শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পর্যাপ্ত পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে সংকোচন সীমা পরীক্ষা করা হয়। আর মাটির জন্য পানির পরিমাণ কতটুকু হবে তা একটি গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বের করা হয়।  

প্রোক্টর কম্প্যাকশন পরীক্ষা 

বাড়ি নির্মাণের পূর্বে করণীয় এই পরীক্ষা এর মাধ্যমে সাইটের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং মাটির বৈশিষ্ট্য বের করা হয়। আর এক্ষেত্রে মাটির শুষ্কতার ঘনত্ব সর্বোচ্চ কত হবে, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে প্রোক্টর কম্প্যাকশন। 

একটি বাড়ির কাঠামো নির্মাণের পূর্বে যে পরীক্ষাগুলো করা জরুরি তার মধ্যে উপরে উল্লেখিত পরীক্ষাগুলো অন্যতম। আর নির্মাণের আগে এই পরীক্ষাগুলো সঠিক নিয়মে না করার ফলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বাড়ি নির্মাণের পূর্বে এই পরীক্ষাগুলো করা হলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।   

কমপ্লিট প্রপার্টি সল্যুশন খুঁজছেন? এখনই ডাউনলোড করুন বিপ্রপার্টি অ্যাপ 

For Android:  www.tinyurl.com/bpropertyapp  

For iOS: www.tinyurl.com/57kj4dnw 

Write A Comment

Author