Reading Time: 3 minutes

স্বাধীনতা মানে আমার কাছে “স্ব-অধীনতা”! অর্থাৎ নিজের মত করে নিজেকে নিয়ে জীবনের সবটুকু উপভোগ করে নেওয়া। মহাত্বা গান্ধী বলেছেন, “ভুল করার স্বাধীনতা না থাকলে সেই স্বাধীনতার কোন মূল্য নাই”।  এমনটা আমি নিজেও মনে করি, এই জীবনে কিছু করার স্বাধীনতা পেলেই কিন্তু হিসেব চুকে গেল না। বরং, সবকিছু বুঝে পাওয়ার ভেতর দিয়ে যদি কোন ভুল হয়েও যায় সেই ভুলটা করার সাহস কিংবা সুযোগ, এক সাথে দুটো পাওয়াই আমার কাছে স্বাধীনতা।  বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছে। কিভাবে? জানতে পড়তে থাকুন।

ব্যক্তি স্বাধীনতা 

মহিলা হাত নাড়াচ্ছে
স্বাধীনতা নিজের করে নেওয়া!

স্বাধীনতা আমাদের ব্যক্তিসত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আমাদের ব্যক্তিজীবনে স্বাধীনতা কিভাবে ফুটে উঠেছে এবং এর কী রকম ব্যবহার করছি আমরা সবকিছু একটু ভেবে দেখার সময় এখন। একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনি কেমন হতে চাচ্ছেন সেই সুযোগটা কিন্তু এই দেশে আপনি শতভাগ পেয়ে যাচ্ছেন। একজন মেয়ে হয়েও যখন আপনি দেশের পুরুষকেন্দ্রিক কাজগুলো করার সুযোগ পাচ্ছেন আবার অন্যদিকে ছেলে হয়েও পাচ্ছেন নারীকেন্দ্রিক কাজগুলো করার সম্পূর্ণ সুযোগ। অর্থাৎ, একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠার জন্য জীবনের সকল উপাদান আপনি পাচ্ছেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে। ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেই শুধু সীমাবদ্ধ নই আমরা। নিজেদের শখ পূরণ থেকে শুরু করে নতুন কিছু তৈরি করা সবকিছুতেই আমরা খুঁজে পাই নতুন কিছু করার স্পর্ধা! কোথায় থাকবো, কেন থাকবো? কার সাথে মিশবো কেনই বা মিশবো? এই সবকিছুর কৈফিয়ত শুধু নিজেকেই দেই কিংবা যাকে দেয়া উচিত তাকেই দেই। এই ভাবনার মাঝে কিংবা এমন অনেক ভাবনার উর্ধ্বেই আমার আপনার সবার স্বাধীনতা বিরাজ করছে! 

ঘরের স্বাধীনতা 

মহিলা দাড়িয়ে আছে
নিজের জন্য ঘর বেছে নেওয়া!

ঘরের স্বাধীনতা আসলে ঘরের ভেতর আপনি কিভাবে থাকছেন তা কিন্তু নয়! ঘরের ভেতরে আমাদের সবারই কমবেশি স্বাধীনতা আছে ঠিক নিজের মত করে থাকার! একটা সময় এমন ছিল, যখন আমাদের বাসার বাইরে বেরনোর স্বাধীনতা ছিল না! দেখতে হতো সময়, খুঁজতে হতো সকলের মর্জি। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে, আমরা আমাদের সুবিধামত বাসার বাইরে থাকতে পারি। অফিসে যাওয়া আসার সুবিধার্থে একই শহরে থাকা সত্ত্বেও  আমরা আমাদের পরিবার থেকে দূরে থাকতে পারছি। এছাড়াও নিজেদের আলাদা ঠিকানাও গড়ে নিচ্ছি। কখনো পরিবারের সাথে আবার কখনো পরিবার থেকে দূরে গিয়ে, নিজেদের একটি আলাদা ঠিকানা গড়ার যে স্বাধীনতা এটাও বা কম কিসের!

কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা 

কি বোর্ড
নিজের জন্য পেশা নিজেই বেছে নেওয়া!

স্টার্ট-আপ কিংবা ফ্রিল্যান্সিং এই দুটো ক্ষেত্রে আপনি পাচ্ছেন নিজস্ব স্বাধীনতা। পেশাগত দিক থেকে শুরু করে পেশায় কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন সবকিছুতেই পাচ্ছেন স্বাধীনতা। আপনি কখন কাজ করবেন কখন করবেন না এই সুবিধা শুধু মাত্র আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ পাচ্ছেন। আপনাকে নিয়ম মাফিক যেতে হচ্ছে না কোন অফিসে। আপনি ঘরে বসে নিজের স্পেসে নিজের কাজটুকু করে নিচ্ছেন। এছাড়াও ৯ টা থেকে ৫ টার নিয়ম ছাড়িয়ে এখন অনেক শিফটও আছে। অর্থাৎ সময় বেছে নেবারও রয়েছে অনেক সুযোগ। আপনি যদি চাকরী করতে নাইবা চান, সেক্ষেত্রেও স্টার্ট আপ শুরু করবার এবং পেশা হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবার সুবিধাও এখন অনেক! দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা কিন্তু কম নয়! আমাদের একটু প্রয়োজন গভীর ভাবে এই স্বাধীনতাগুলো নিয়ে ভাবার।

নতুন কিছু করার স্বাধীনতা 

মানুষ দাঁড়িয়েছে আছে পাহারে
নতুন কিছু নিয়ে আসা!

বর্তমান সময়ে গতানুগতিক ভাবনা থেকে বেড়িয়ে নতুন কিছু ভাবার বা করার যে স্বাধীনতাটা আমরা পাচ্ছি সেটাই কিন্তু সত্যিকারের স্বাধীনতা। যে নিয়মগুলো আমাদের বাঁধা দেয় আমরা সেগুলো ভেঙ্গে দিচ্ছি যেগুলো আমাদের পিছিয়ে দেয় সেগুলো বদলে নিচ্ছি। এভাবেই আমরা সবাই মিলে যার যার জায়গা থেকে নতুন কিছু করে যাচ্ছি। নিজের ঘরে আজ কী রান্না হবে থেকে শুরু করে আমার মতামত প্রকাশ সবকিছুতেই আছে এক রকমের স্বাধীনতা। রোজ জীবনে এমন কিছু হচ্ছে যেগুলো আমাদের কাছে নতুন লাগে। কিংবা আগে কখনো এমন ভাবা হয়নি। কিন্তু, সকলের মধ্যে এই নতুন কে গ্রহণ করার একটা মানসিকতা তৈরি হয়েছে এটাই আমার কাছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতার রূপ একেক জনের কাছে একেক রকম কিন্তু এটা পাবার অনুভূতি কিংবা ব্যাকুলতা সকলেরই এক! 

ছোট পরিসরে খুব অল্পে আপনাদের কাছে আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা কেমন সেটা তুলে ধরেছি। আপনি যদি আমার বক্তব্যে সহমত পোষণ করেন তাহলে কমেন্টে জানিয়ে দিন!  শেষে এতটুকুই বলব “ক্ষেত্র যেমনই হোক, স্বাধীনতা থাকুক সবার হয়ে”। 

Write A Comment