Reading Time: 3 minutes

ঈদ হোক বা অন্য যে কোনো সাধারণ দিন, আমাদের হোম অ্যাপ্লায়েন্স গুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হোম অ্যাপ্লায়েন্স হচ্ছে রেফ্রিজারেটর। যা আমাদের ঘর- গৃহস্থালিতে ফ্রিজ নামে পরিচিত। মাছ, মাংস, শাক-সবজি থেকে শুরু করে যে কোনো খাবার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এর জন্য আমরা সবাই নির্ভরশীল এই ফ্রিজ এর উপর। তবে, ফ্রিজ যদি অপরিষ্কার থাকে তাহলে কিন্তু তৈরি হতে পারে নানা রকম অসুবিধা।  

যেমন ফ্রিজ অপরিষ্কার থাকলে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সেই বাসি খাবার খেয়ে আমাদেরও নানা রকম রোগ হবার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া, ফ্রিজ  নোংরা থাকলে ফ্রিজ দ্রুত নষ্ট ও হয়ে যায়। ফলে ফ্রিজ সার্ভিসিং করতে বা নতুন ফ্রিজ কিনতেও গুণতে হয় বাড়তি টাকা। আর এসকল কারণেই, যে কোনো রেফ্রিজারেটর নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, ঘরোয়া উপায়ে রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম গুলো কী কী? চলুন জেনে আসা যাক আজকের আর্টিকেলে।  ফ্রিজের দরকার বিশেষ যত্ন। তাই চলুন জেনে নিই ফ্রিজ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম।

রেফ্রিজারেটর
যে কোনো রেফ্রিজারেটর নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ফ্রিজের কয়েল পরিষ্কার করুন 

রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার করতে, প্রথমেই এর সুইচটি অফ করে দিন। এবার ফ্রিজের পেছনে ও নীচে থাকা কয়েল পাতলা নরম সুতি কাপড় বা নরম ঝাড়ুনি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

বরফ সরিয়ে ফেলুন 

আপনার ঘরের রেফ্রিজারেটরটি যদি নন ফ্রস্ট না হয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু ডিপ ফ্রিজে বরফ জমবেই। এতে করে বরফ জমতে জমতে একটা সময় খাবার বা মাছ-মাংস রাখতে গিয়ে জায়গার সাংকুলান ঘটানোই কষ্টকর হয়ে যায়। তাই, আপনার ডিপ ফ্রিজে যদি অনেক বরফ জমে যায় তাহলে রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম মেনে কয়েক ঘন্টা আগেই ফ্রিজের বৈদ্যুতিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে রাখুন। এতে ফ্রিজের বরফ গলে যাবে এবং কষ্ট করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বরফ পরিষ্কার করতে হবেনা। 

ফ্রিজের খাবার সরিয়ে ফেলুন 

আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিন কবে আপনি ফ্রিজটি পরিষ্কার করতে চান। সেই হিসেব করে ফ্রিজের খাবারগুলো আগে থেকেই শেষ করার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে রাখা অন্যান্য জিনিসও পরিষ্কার করার আগেই বের করে ফেলুন। এতে করে রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম গুলো সঠিক ভাবে অনুসরণ করা আপনার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে।  

রেফ্রিজারেটর
পরিষ্কার করার জন্য ফ্রিজের খাবারগুলো আগে থেকেই শেষ করার চেষ্টা করুন

শেলফ ও ট্রে পরিষ্কার করুন 

খাবার বের করা হয়ে গেলে ফ্রিজের সবগুলো শেলফ ও ট্রে বের করে নিন। হালকা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট ও জীবাণুনাশক গুলিয়ে শেলফ ও ট্রেগুলো ভিজিয়ে রাখুন। আপনি চাইলে এই ডিটারজেন্ট বা জীবানুনাশক ঘরেও প্রস্তত করে নিতে পারেন। ভিজিয়ে রাখার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর পর একটি স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে ঘষে দাগ-ময়লা পরিষ্কার করুন। এবং পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরানোর জন্য ট্রে ও শেলফগুলো  রোদে দিন বা আলো-বাতাস পূর্ণ একটি শুকনো জায়গায় রেখে দিন।  পানি ঝরার পর শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় দিয়ে সেগুলো ভালো করে মুছে রাখুন।

স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে ঘষে দাগ-ময়লা পরিষ্কার করুন

ফিজের ভিতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন 

রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম মেনে এবার ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশের দিকে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফ্রিজের ভিতরের অংশ পরিষ্কার করতে কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং মিশ্রণটি দিয়ে একটি স্পঞ্জের সাহায্যে ভালোভাবে মুছে নিন। এর ফলে ফ্রিজের ভিতরে থাকা দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে। সেই সাথে, একটি ব্রাশ দিয়ে ফ্রিজের কোনাগুলো ও ফ্রিজের দরজার রাবার সিলগুলোও পরিষ্কার করে নিন। 

ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কার হয়ে গেলে ভিনেগার মেশানো পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ফ্রিজের বাহিরের অংশটাও পরিষ্কার করে নিন। কোথাও জেদী দাগ থাকলে একই মিশ্রণে স্পঞ্জ ডুবিয়ে ভালোভাবে ঘষতে থাকুন। ফ্রিজের জেদী দাগ সহজেই দূর হবে।  

ভিনেগার মেশানো পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ফ্রিজের বাহিরের অংশটাও পরিষ্কার করে নিন

ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করুন 

ফ্রিজকে ভালো রাখতে হলে শুধুমাত্র রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম গুলো অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়। সম্পূর্ণ ফ্রিজটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পড়ে এটিকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করাও জরুরি। এজন্য এতক্ষণ ধরে ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে মেঝেতে যে পানি পড়েছে তা  মুছে ফেলুন। শুকনো ড্রয়ার ও ট্রে-গুলো ফ্রিজের ভিতর সেট করুন। এবার  ফ্রিজের সুইচ অন করে অন্তত ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তারপর ফ্রিজ থেকে বের করে রাখা খাবারগুলো পুনরায় ফ্রিজে রাখুন। 

আসছে কোরবানির ঈদ। ফ্রিজের উপর প্রতিটি ঘরে এসময় থাকে বাড়তি চাপ। তাই রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার এর নিয়ম গুলো জেনে নিয়ে ঈদের আগেই আপনার ঘরের ফ্রিজটি পরিষ্কার করে নিন। ফ্রিজ পরিষ্কার  এর নিয়ম সংক্রান্ত আর কোন টিপস আপনার জানা থাকলে, আমাদেরকে জানান কমেন্টে।  

Write A Comment

Author