Reading Time: 3 minutes

২০১৯ সালের প্রথম আলোর এক খবর থেকে জেনেছিলাম আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৭ ভাগেরও বেশি নাকি প্রতিবন্ধী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ জন (২০১৯ অব্দি)। এই সংখ্যাটা মোটেও কম নয়, অনেক বেশি। জন্মগত ভাবে কিংবা দূর্ঘটনা জনিত যে কারণেই আপনি প্রতিবন্ধী হোন না কেন, যে স্থানে আপনি বসবাস করছেন তা আপনার জন্য কতটা বান্ধব তা বুঝতে হবে। অনেকে অল্প সময়ের জন্য অসুস্থ হোন কিংবা ৫ বা ৬ মাসের জন্য অসুস্থ হোন এক্ষেত্রে, আপনার বাসাকে  শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক ঘর হিসেবে তৈরি করে নিতে হবে। যাতে করে আপনি দৈনন্দিন সকল কাজ একাই করতে পারেন কারও কোন সাহায্য ছাড়াই। চলুন জানি কিভাবে নিজের ঘরকে শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক ঘর বানানো যায়! 

হুইলচেয়ার
“আপনার বাসাকে  শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক ঘর হিসেবে তৈরি করে নিতে হবে”

ঘরের দরজা প্রশস্ত করা

ঘরের এখনকার দরজায় অনেক হুইলচেয়ার এবং ওয়াকার সহজেই প্রবেশ করতে পারে না। সহজে কারও সাহায্য ছাড়া যাতায়াতের জন্য প্রবেশদ্বার বা দরজা প্রশস্ত করাটা বেশ জরুরী। যদিও প্রবেশদ্বার বড় করা প্রচুর ব্যয়বহুল। খরচ কমাতে দরজার কয়েক ইঞ্চি আপনি বড় করতে পারেন এতেও কিন্তু অনেকটা সাহায্য হবে। দরজাও বদলে নিতে পারেন, যদি আপনার দরজাটা ছোট হয়ে থাকে। এতেও একটু কম খরচে প্রবেশদ্বারের সমস্যা সমাধান হবে। 

উঁচু র‍্যাম্প তৈরি করুন 

যাদের চলাচলে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই “র‍্যাম্প ওয়ে” খুবই উপযোগী। শুধু  হুইলচেয়ারগুলোকেই চলাচলে সহায়তা করে না বরং যাদের হাটতে একটু সমস্যা হয় তারাও এই র‍্যাম্প ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে। এই র‍্যাম্প ওয়ে তৈরি করতে খুব বেশি খরচ হয়না তবে অবশ্যই বাড়ির মালিকের অনুমতি নেওয়াটা জরুরী।

বাথরুমে “গ্র্যাব বার” তৈরি করুন 

শাওয়ার বা টয়লেট সিটের কাছাকাছি এই গ্র্যাব বারগুলো তৈরি করা বেশ জরুরী। নয়তবা যেকোন দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়। এক থেকে ২ ইঞ্চি মোটা এবং ১২-১৪ ইঞ্চি লম্বা মাপের বার তৈরি করলে সকলেই এটা ব্যবহার করতে পারবে। এই বারগুলো বেশ শক্তিশালী সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। এগুলো ধরে বাথরুমে যাওয়া আসা নিজে নিজেই করা সম্ভব।

টয়লেট উঁচু করুন 

এগুলোকে টয়লেট রাইজার বলা হয়। যাদের বাঁকা হয়ে বসতে বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোতে সমস্যা হয় বা বসে থাকতে কষ্ট হয় তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এগুলো সহজেই টয়লেট সিটের উপর বসিয়ে দেওয়া যায়, কোন বাড়তি ঝামেলা নেই, এবং খরচের দিক থেকেও এগুলো বেশ সাশ্রয়ী। শহরের যেকোন ঔষধের দোকানে এগুলো পেয়ে যাবেন।

স্টেপ ইন শাওয়ার তৈরি করুন 

বাথটাব বা সাধারণ পানির ট্যাপের ব্যবস্থা থাকলে তা পরিবর্তন করে “স্টেপ ইন শাওয়ার” দিতে হবে। এতে করে সহজেই আপনি গোসলের কাজ নিজেই করতে পারবেন অন্যের সাহায্য ছাড়া। শাওয়ার দেওয়ার সুবিধা হচ্ছে আপনি এই শাওয়ারের নিচে অবস্থান নিলেই আপনার গোসল কোন ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়ে যাবে। স্টেপ ইন শাওয়ারগুলো বেশ সুবিধানজনক এদিক দিয়ে।

মহিলা হুইলচেয়ারে
“সহজে চলাচল ও বসা যায়”

ফ্লোর ঠিক করুন 

রাগস এবং কার্পেট কেবল হুইলচেয়ার আরোহী বা হাঁটাচলাকারীদের জন্যই কঠিন নয় বরং সকলের জন্যই এগুলো বেশ বিপদজনক। অনেক সময় খেয়াল না করে হাঁটলে ঘটতে পারে নানান বিপদ। কার্পেটে   হুইলচেয়ার আরোহীদের জন্য চলাচল বেশ কঠিন হয়ে যায়, হাতের উপর প্রেশার পড়ে এবং অনেক সময় অন্যের সাহায্য প্রয়োজন পড়ে। তাই শক্ত কাঠের মেঝে, ভিনাইল বা সিরামিক টাইলসের ফ্লোর বিবেচনায় আনুন।

রান্নাঘর ঠিক করুন 

শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক ঘর নিয়ে ভাবছেন সেখানে রান্নাঘরের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান কিভাবে বাদ করা যায়। রান্নাঘরের স্পেস কার্যকরী উপায়ে ভাগ করে নিন। সহজে রান্নার কাজ করার জন্য সিঙ্ক এবং কাউন্টার টপের উচ্চতা কমিয়ে আনুন। প্রতিদিনের প্রয়জনের জিনিসগুলো নিচের কেবিনেটে সরিয়ে আনুন। দরকার আরও কেবিনেট তৈরি করুন।  

আলমারি বা কেবিনেট নিচু করুন 

আলমারি বা কেবিনেটকে আরও নিচে নিয়ে আসুন কিংবা কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য রোডের ব্যবস্থা করুন, রডের উচ্চতা যেন মেঝে থেকে দুই ফুটের হয়ে থাকে তাহলে, হুইলচেয়ারে থাকা মানুষটি সহজেই সেখান থেকে কাপড় নিতে ও রাখতে পারবে।  

নব হ্যান্ডেল বদলে নিন 

যাদের হাতে সমস্যা বা হাত ব্যবহার করতে কষ্ট তাদের জন্য এই দরজার নবগুলো ঘুরানো বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বরং চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই এই সমস্ত ডোর নব গুলো বদলে লিভার হ্যান্ডেল আনুন। দেখবেন দরজা খোলা ও বন্ধ করা তখন আর তেমন কষ্টের মনে হবে না।  

আসবাব সাজিয়ে নিন 

চলাচল সহজ করতে, প্রতিটা আসবাবের মধ্যে কমপক্ষে ৩২ ইঞ্চির পথ তৈরি করুন। যাতে করে সহজে চলাচল ও বসা যায়। আবার অনেক সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে সহায়তা করার জন্য আপনার আসবাবপত্র বাড়ানোর প্রয়োজনও হতে পারে। এছাড়াও একবার ভাবুন, এভাবে কিন্তু আপনি আপনার ফ্ল্যাটের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারছেন। কেননা যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী আছেন তারা এমন বাসা হয়তো খুঁজে বেরাচ্ছে হয় ভাড়ার জন্য নয় কেনার জন্য। সুতরাং ১০টি উপায়ে ফ্ল্যাটের মূল্য বৃদ্ধি করুন এবং সময় বুঝে ভাড়া এবং বিক্রয় করুন। 

এই কয়েকটি টিপস জেনে সহজেই আপনার ঘর হয়ে উঠবে প্রতিবন্ধী সহায়ক ঘর! এমন টিপস সম্বন্ধে জানতে আমাদের ব্লগ নিয়মিত পড়ুন।

Write A Comment