Reading Time: 3 minutes

বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কিনবেন ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্য ছোট ঘরে থাকার এই ৫ টি সুবিধা সম্বন্ধে জানা বেশ জরুরী। এখনকার সময়ে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সহজ কথা নয়! ভাবতে হয় নানা কিছু। আপনি যেন সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেই জন্যই আজকের এই লেখা। অবশ্যই বড় ঘর বা বাসা সবার কাছেই বেশি প্রিয়। অনেক খোলামেলা থাকে, চলফেরার সুযোগ থাকে, আপনি নিজের মত করে সময়ও কাটাতে পারেন। কিন্তু তাই বলে যে ছোট ঘরে থাকার যে শুধু অসুবিধাই আছে তা কিন্তু না! কেমন সেই সুবিধাগুলো একটু জেনে নেই!

সাধ্যের মধ্যে

মানিব্যাগ, টাকা এবং ল্যাপটপ
টাকার হিসেবটা আগে করতে হবে

ছোট বাসায় থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটা আর্থিকভাবে বেশ সহজ। ঢাকায় ভাড়া বাসা নাকি কেনা কোন কোনটা লাভজনক এটা অনেকের কাছেই ভাবার বিষয়। মানে আপনি ছোট বাসাগুলো সহজেই কিনতে অথবা ভাড়া নিতে পারছেন! নিজস্ব পরিমাণ টাকার বিনিময়ে যেকোন এলাকায় আপনি অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে পারছেন। এই শহরে থাকতে গেলে সাধ্যমত ভাড়ায় কোন অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়াই যেন একটা পরীক্ষা। কিন্তু বড় বাসার ক্ষেত্রে যদিও এমন না। যেমন, ১৫০০ স্কয়ার ফিটের বাসার চেয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ স্কয়ার ফিটের দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্ট বেশি সাশ্রয়ী এবং গ্রহণযোগ্য। শহরে থাকার ক্ষেত্রে বরাবরই ছোট বাসাগুলো বেশি জনপ্রিয়। 

সহজে দেখাশোনা 

মহিলা জানালা পরিষ্কার করছেন
দেখাশোনা করুন নিয়মিত

বড় খোলামেলা অ্যাপার্টমেন্টে যারা থাকছেন শুধু তারাই জানেন, এটা পরিষ্কার বা দেখাশোনা করা কতটুকু কঠিন কাজ। নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় নয়তবা বেশি নোংরা হয়ে পরে। ঘর পরিস্কারের জন্য কি করতে হবে আমরা সবাই জানি। ছোট বাসাগুলো এদিক থেকে বেশ সুবিধার। কিছু সমস্যা দেখা দিলেও খুব সহজে সেটা সমাধান করা যায়। এছাড়াও পরিষ্কারের দিক থেকেও এটি বেশ সুবিধার। আপনি কম সময়েই পরিষ্কার করে ফেলতে পারছেন। ব্যস্ত সময় আমরা সবাই কাটাই এই ব্যস্ত সময়ে নিজের জন্য সময় বের করা যেখানে কঠিন সেখানে ঘরের পেছনে এত সময় দেওয়াই কিন্তু কঠিন। আপনি নিজেই ভাবুন তো, ছুটির দিনে আপনি কি ৯০০ স্কয়ার ফিটের অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করবেন নাকি ২০০০ স্কয়ার ফিটের?

সাশ্রয়ী 

বাসার ছবি
ছোট বাসাগুলো নিজের মত করে সাজানো যায়

বাসা ছোট হবার ফলে স্বভাবতই খরচের জায়গাও কমে আসে। ইউটিলিটি চার্জ থেকে শুরু করে ঘরের আনুষঙ্গিক অনেক কিছুতেই তখন আপনি করতে পারছেন সাশ্রয়। ৯০০ স্কয়ার ফিটের বাসায় ইউটিলিটি বিল অবশ্যই কম আসবে। ছোট বাসায় থাকার এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। শুধু আর্থিক দিক থেকে নয় বরং শক্তির দিক থেকেও এটি বেশ সাশ্রয়ী। ছোট বাসায় আপনি সাজসজ্জাও নিজের ইচ্ছে মত করতে পারছেন। কিন্তু বড় বাসার বেলায় কিন্তু এমন নয়। আপনার ইচ্ছা না থাকা সত্বেও অনেক সময় নানারকম ডেকোর করতে হয় কারণ জায়গা খালি রাখা যাচ্ছে না। সুতরাং ছোট বাসা সবদিক দিয়েই বেশ সাশ্রয়ী। 

কাস্টমাইজ করা সহজ

পেইন্ট
নিজের মত করে সাজিয়ে রাখা যায়

নিজের মত করে তৈরি করে নেওয়া। কাস্টমাইজ করার মানে এটাই। ছোট ঘরগুলোতে এই সুবিধাটা আপনি সহজেই পাচ্ছেন। বড় অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে জায়গা বেশি হবার কারনে আসবাব প্রয়োজন হয় বেশি পরিমানে। কিন্তু ছোট ঘরে আসবাবের জায়গা থাকে কম তাই টাকার খরচও হয় বেশি। বড় অ্যাপার্টমেন্টে ডেকোরের জন্যও বেশি আসবাবের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ছোট ঘরের কাজগুলাও কিন্তু ছোট পরিসরেই সেরে ফেলা যায়, যা বড় বাসার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। ছোট বাসার অনেক কিছু চাইলেই নিজেই সামলে উঠা সম্ভব। ঘরের রঙটাও কিন্তু নিজেরাই সেরে ফেলতে পারেন। 

নিজস্বতা বিরাজ করে  

বেড এবং বালিশ
নিজস্বতা থাকাটা বেশ জরুরী

বাসা কিংবা ঘর এগুলো শুধু শব্দ নয়। একটা অনুভূতি। যেখানটায় আপনি থাকছেন, সেখানের জন্য আপনার ভেতরে অবশ্যই কিছু অনুভূতি কাজ করে বা করবে। বড় ঘরের বেলায় যেটা হয় সব কিছুতে আপনার নিজের অংশগ্রহণ একটু কম থাকে। যেহেতু বড় বাসা সব কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবেও না। কিন্তু ছোট বাসা এক ভিন্ন অনুভূতি। সবকিছুতে নিজস্বতা থাকে। ঘরের সবকিছু আপনার কাছে কাছে থাকে বলে আপনি সহজেই ঘরের আসবাবের প্রেমে পড়ে যান। ঘরের ভেতর আসবাবগুলো থাকে একদম কাছাকাছি। ঘরের পাশে থাকে ঘর আর সবার মধ্যেই বিরাজ করে নিজস্বতা।   

ছোট ঘরে থাকার সুবিধাগুলো বেশ প্রয়োজনীয়। আপনি চাইলেই এই কয়েকটি সুবিধা সম্বন্ধে জেনে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। ছোট ঘরে থাকার এই ৫ সুবিধা ছাড়াও যদি আরও কিছু সুবিধা থেকে থাকে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। 

Write A Comment